সোনারগাঁওয়ে আল মোস্তফা গ্রুপের বিরুদ্ধে কৃষকদের জমি জোর পূর্বক দখলের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:২০ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আল মোস্তফা গ্রুপের বিরুদ্ধে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঘটে জমি দখলের এ ঘটনা। এ ঘটনায় ২৭ জুলাই রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসাঃ নাজমা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় ইউছুফ আলী ও নাজমা আক্তার গংদের পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রের প্রায় দুই একর সম্পত্তি আল মোস্তফা গ্রুপ জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৬ জুলাই) আনুমানিক
রাত ১০টার দিকে একই এলাকার বিএনপি নামধারী প্রভাবশালী একটি মহল দেশীয় অস্ত্র নিয় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আল মোস্তফা কোম্পানির পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীদের জমির উপর জোর পূর্বক টিনের বেড়া নির্মাণ করে জমিতে যাওয়ার চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে নিজেদের জমিতে জোর পূর্বক টিনের বেড়া দিতে বাধা দিলে লাঠিসোটা, বড় দা ও ছেনা নিয়ে তাঁদের দিকে ধেয়ে আসে দখলকারীরা। এসময় আতঙ্কিত পরিবার তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে কিছু সময় বেড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে, তবে প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ চলে গেলে আবারও দেয়াল নির্মাণ শুরু করে তারা।
অভিযোগকারী ভুক্তভোগী মোসাঃ নাজমা আক্তার (৩৫) জানান, আমি ও আমার অন্যান্য শরিকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই একর জমির মালিক হইয়া ভোগ দখল ও বসবাস করে আসছি। জমি গুলো আমাদের পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে পরিবারসহ বসবাস এবং দক্ষিণ পাশে ফলমূল ও সবজির চাষ করে আসছি।
“আমাদের এই জমি দেখেই আল-মোস্তফা কোম্পানির মালিক মোস্তফা কামাল আমাদের বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন।”
গত ২৬ জুলাই দিবাগত রাত ১০টার দিকে মোস্তফা কামালের নির্দেশে সোনারগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও পিরোজপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি দল উক্ত জমিতে বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশ করে রাজমিস্ত্রিদের মাধ্যমে জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণ শুরু করে তারা।
তিনি আরো জানান, আমরা বাঁধা দিতে গেলে হামলার হুমকি দেওয়া হয়, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র বড় বড় দাও ছেনা নিয়ে তাঁদের দিকে ধেয়ে আসে দখলকারীরা। আমরা আতঙ্কিত হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে কিছু সময় কাজ বন্ধ রাখে, তবে প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ চলে গেলে আবারও দেয়াল নির্মাণ শুরু হয়।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের জানানো হলেও কেউ সহায়তায় এগিয়ে আসেনি বলেও দাবি নাজমা আক্তার ও জমির অন্যান্য শরিকদের।
জমির মালিক ও শরীকেরা আরও জানান, এর আগেও ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে একই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোনারগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ৭৭) করা হয়েছিল। তারা বলেন, একদিকে আমাদের জমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করছে, অপরদিকে আমাদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যেকোন সময় আমাদের বড়ো ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে তারা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত সোনারগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও পিরোজপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, আমরা কারোর জমি দখল করতে যাইনি এবং আমাদের সেখানে কোন জমিও নাই। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত তাও আমরা জানিনা। আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।
এদিকে দখলকৃত জমির মালিক ও শরীকেরা সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে জীবনের নিরাপত্তা ও জমির সুরক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।