লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করতে লুটপাটসহ বেলায়েত হোসেন কিরন নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। প্রায় ২ মাস দোকান বন্ধ থাকায় উপার্জন বন্ধ হয়ে পরিবার নিয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কিরন ও জমির ইজারাদার মারজাহান বেগম সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কিরন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ ধরে কিরন ভবানীগঞ্জের ওই দোকানটিতে ব্যবসা করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বেলায়েত হোসেন কিরন বলেন, সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার খুরশিদ, তার ভাই ফারুক, মোহন, আলমগীর, জাহাঙ্গীর ও নুরু আমার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা না দেওয়ায় তারা ১৯ জুন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট ও আমাকে বেদম পিটিয়ে আহত করে। তারা আমাকে ফের মারধরসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। প্রায় ২ মাস আমার দোকান বন্ধ, আয়-উপার্জনও বন্ধ। পরিবার নিয়ে আমি এখন অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি। থানা পুলিশ দোকানটি আমাকে খুলে দেওয়ার জন্য বলেছে। এরমধ্যে তারা দোকানের সামনে ২ হাজার ইট রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে।
জমির ইজারাদার মারজাহান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে জমিটি (বিপি সম্পত্তি) ইজারা নিয়ে আমরা ভোগ দখল করছি। হঠাৎ করে খুরশিদরা এসে ভাড়াটিয়ার ওপর হামলা করে দোকানটি দখল করার চেষ্টা করে। এখন দোকানটি বন্ধ। দোকানটি খুলে দিতে আমি সবার কাছে অনুরোধ জানাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকার প্রাক্তন সেনা সদস্য নুরনবীর নামে জমিটি (সরকারি বিপি সম্পত্তি) ইজারা রয়েছে। সেখানে একটি দোকান রয়েছে। লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের কিরন দোকানটি ভাড়া নিয়ে লেপ-তোশকের ব্যবসা করে আসছেন। হঠাৎ করে খুরশিদসহ তার ভাইয়েরা জমিটি তাদের দাবি করে। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী এটি নুরনবীর নামেই রয়েছে।
বক্তব্য জানতে চাইলে মো. খুরশিদ বলেন, জমিটি আমাদের খরিদকৃত। এ ঘটনায় থানায় কিরন অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু বৈঠক ডাকলে সে থানায় যায় না। তাকে হুমকি-ধমকি, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা
এদিকে গত ২ জুলাই বেলায়েত হোসেন কিরন তার দোকান বুঝে পেতে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ সুপার এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনার প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার বসা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া দোকান বুঝিয়ে দিতেও বলা হয়েছে। যেহেতু দোকান বুঝিয়ে দেয়নি, এনিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।