সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে সাবেক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনসহ ২৭ জনকে আসামির করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ০৬ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমল গ্রহণকারী আদালত, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, এ এই চার্জশীট দাখিল করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম এই দীর্ঘ তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন।
তদন্তে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধনের অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— তাহিরপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন (৪০) ঘাগটিয়া আদর্শগ্রামের মোশাহিদ হোসেন রানু ওরফে রানু মেম্বার (৩৭) ঢালরপাড়ের (লাউড়েরগড়) জামাল মিয়া (৫৪) ও বিল্লাল মিয়া (৪৮) এবং রাজারগাঁওয়ের বোরহান উদ্দিন (৫৪) সহ সর্বমোট ২৭ জন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ধারা ৪(২), ৬(ঙ), ১২ এবং একই আইনের ১৫(১) ধারার টেবিল ক্রমিক নং-১, ৮ ও ১২ বিধানাবলী লঙ্ঘনজনিত অপরাধে এই চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: মোহাইমিনুল হক জানান, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড় মৌজার অন্তর্গত যাদুকাটা-১ এবং পুরান লাউড় ও চালিয়ারঘাট মৌজার যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারা বহির্ভূত এলাকার নদীর পাড় এবং রাজাই মৌজার শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয় কর্তৃক গত ১৫/১০/২০২৩ খ্রি. তারিখে তাহিরপুর থানায় ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল (তাহিরপুর থানার মামলা নং: ১৩/২১৭)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজ ২৭ জনের বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত চার্জশীট দাখিল করা হলো।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক জানান, অবৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলন করে যারা পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসাত্মক ক্ষতিসাধন করছে, তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।