একজন মানবিক ও ডায়নামিক জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। ২০২৫ সালের ১৭নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ পান তিনি। যোগদানের পর থেকে ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা রাত-দিন তার সেবা পাচ্ছে। জেলার সামাজিক ও মানবিক কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য জেলাবাসীর কাছে ইতোমধ্যে তিনি ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
যোগদানের পর থেকেই জেলা প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও দুর্ণীতি মুক্ত জনপ্রশাসন হিসেবে গড়তে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে দেখা গেছে নির্ভীক, নিরহংকার ও সদালাপী এই মানুষটির মনে রয়েছে নানান স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী ভাবনা যা তিনি বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বশ্রেণী মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিরন্তর ব্যস্ত থাকেন । ইতোমধ্যেই তিনি ও তার টিম সারা জেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। এছাড়াও সেবা গ্রহীতাগণ জেলা প্রশাসনের কোন সেবা হতে বঞ্চিত হলেও অভিযোগ জানাতে পারেন জেলা প্রশাসকের মোবাইল নম্বরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান তার অফিসের চেয়ার ছেড়েও বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের সাথে মনখোলা অবস্থায় কথা গুলোর মনযোগ সহ শুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি বিকেল বা সন্ধ্যা ও রাতেও অফিসে উপস্থিত থাকেন। প্রায় সময় দেখা যায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন ডিসির সাথে দেখা করে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান মানুষের সমস্যা গুলো শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
একাধিক সময় তাকে অনুসরণ-অনুকরণের পুরাতন এই জেলার মাধ্যমে তার কাজের স্বচ্ছতা পাওয়া যায়। সৎ, নির্ভীক, কর্মঠ এবং নিরহঙ্কারী মানুষ তিনি, যেমন সময়ের প্রতি দায়িত্বশীল, তেমনি কাজের প্রতিও দায়িত্বশীল। তার জেলা প্রশাসকের সকল টিম সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সকল জেলা প্রশাসক যদি প্রত্যেক জেলায় তার মত দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে দেশের চেহারাটাই বদলে যেতো—এমনটাই ধারণা করছেন গুণীজনেরা।
তিনি বর্তমানে এ জেলার সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও যে আমজনতার মাঝে মিশে যাওয়া যায়—তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত তার কর্মদক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে। ক্রমশ তিনি হয়ে উঠেছেন ময়মনসিংহ জেলাবাসীর আইকন। মানুষ নিজেদের কর্মগুনে জনমনে স্থান করে নেন, তেমনি একজন ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান । প্রশাসনের কাজে তিনি যেমন দক্ষ তেমনি একজন মানবিক ব্যক্তিও। তাঁর মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতায় ময়মনসিংহ জেলা বাসি মুগ্ধ হয়ে উঠেছেন।
নগরীর পাটগুদাম রেলী মোড় এলাকার মোঃ সাগর।একসময় ব্যাটারির দোকানে কাজ করে মা-স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ছোট্ট পরিবার চালাতেন। হঠাৎ বাসায় ফেরার সময় বস্তির পাশেই রেল লাইনের নীচে পরে দুটো পা হারান। এতে সাগর কাজকর্মে অক্ষম হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট।
অসহায় এই মানুষটির পরিবারের সদস্যরা পরিচিতজনদের পরামর্শে জেলা প্রশাসক বরাবর সহযোগীতার আবেদন করলে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১১.০৬.০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান সাগরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মোঃ সাগরকে একটি হুইল চেয়ার ও ২০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। অসহায়ত্বের জীবনে ডিসির সহযোগীতা পেয়ে সাগরে কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, চোখে কৃতজ্ঞতার ছাপ। তিনি বলেন, “এত ব্যস্ততার মাঝেও স্যার আমার বাড়ীতে এসেছেন, সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করেছেন। মনে হয়েছে, আমরা একা নই।”
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাসিন্দা সুমী অসাবধানতাবশত পায়ে কাঁচ ঢুকে আহত হলে ইনফেকশনের ফলে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। কর্মক্ষমতা হারিয়ে তাঁর আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সুমীর বৃদ্ধা মা জটিল রোগে ভুগছেন। অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা শুরু করাও সম্ভব হচ্ছিল না।সুমীর মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসক। তিনি গত ২৫.০৬.২০২৬ তারিখ সুমীকে একটি হুইলচেয়ার, নগদ অর্থ এবং আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। সুমী বলেন, “ডিসি স্যার আমার কষ্টের কথা বুঝেছেন। এখন অন্তত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব।”
ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দা মোছাঃ হালিমা খাতুন-এরচলাচলে অসমর্থ সন্তানের জন্য তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৫.০৪.২০২৬ খ্রি. তারিখ মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের -এর পক্ষ থেকে সরেজমিনে যাচাইপূর্বক তার চলাচলে অসমর্থ সন্তানকে একটি হুইল চেয়ার এবং তাকে স্বাবলম্বী করতে একটি সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
শুধু ময়মনসিংহ সদরেই নয় জেলার প্রতিটি অসহায় মানুষের খোজ নিয়ে তার প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। তাদের মাঝে জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা বিধবা মোছাঃ হাফিজা আক্তার স্মৃতি জানান- সংসারে উপার্জন করার মত কেহ না থাকায় হাফিজা তাঁর দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন,জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান তার খোজ খবর নিয়ে গত ২৩.০৬.২০২৬ তারিখে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে হাফিজাকে একটি সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ প্রদান করে পাশে দাঁড়িয়েছেনজেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, যাতে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারেন। এছাড়াও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের একই পরিবারের ৮প্রতিবন্ধীর খোজ নিয়ে তাদেরকে সহযোগীতা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
মানবিকতার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কোটি কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একজন সাহসী মানুষ যিনি কোন ধরনের অন্যায়ের সাথে কখনো আপোস করেন নাই। এজন্য তাকে অনেক সময় অসৎ অবৈধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে । কারণ তিনি আসার পর এ জেলার অবৈধ বালু, ভূমি, ব্রীক্স সহ অনেক অবৈধ ব্যবসা-ই এখন বন্ধের পথে। কোন বিশেষ প্রয়োজনে তাঁর সাথে দেখা করতে চেয়ে সুযোগ পাওয়া যায়নি এমন ঘটনা বিরল। সাক্ষাৎ প্রত্যাশী মানুষের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে তাদের সমস্যা বা দুর্ভোগের কার্যকর সমাধানে যথাসাধ্য চেষ্টা করা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে তিনি ময়মনসিংহের অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়ে উঠেছেন।