জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, মাদারীপুর। সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার একটি ঘটনার অনুসন্ধানী চিত্র উঠে এসেছে। বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন রেখে ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মোঃ মোশারফ হোসেন বাদল নামের অফিস সহকারীর সঙ্গে সাংবাদিকদের সরাসরি কথোপকথনের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।
সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় মাদারীপুর, চাকরিরত অবস্থায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। সাংবাদিকরা তার বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি অ – সঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দিতে থাকেন।
কথোপকথনে দেখা যায়:বয়স সংক্রান্ত অ-সঙ্গতি সাংবাদিকরা যখন তার নিকট জাতীয় পরিচয়পত্র বা সনদে উল্লিখিত বয়স জানতে চান, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান তার বয়স ২৭ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অথচ তার বর্তমান বয়স বা জন্ম সাল অনুযায়ী হিসাব করলে চাকরির নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যায় বলে সাংবাদিকরা প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা এবং মাদ্রাসার মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে তার প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা নেই বা পড়াশোনা সামান্য।
জালিয়াতির অভিযোগে সাংবাদিকরা স্পষ্টভাবে তাকে অবহিত করেন যে, বয়স ও শিক্ষার তথ্য গোপন করে তিনি অন্যের হক নষ্ট করে এই চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে তাদের কাছে আসা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারা মাদ্রাসার রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরেজমিনে তদন্ত করবেন বলেও জানান।
স্বীকারোক্তি ও অনুনয় করে একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করার মতো ভঙ্গি করেন এবং বিষয়টি নিউজ না করার জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। তবে সাংবাদিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করা এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরাই তাদের দায়িত্ব। এমনকি মোশারফ হোসেন বাদলের বিষয় তথ্য জানার জন্য মাদারীপুর সদর থানার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের বাদল এর কাছে গেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে সততা প্রকাশ করে বলেন আপনাদের প্রতি অনুরোধ কারো রিজিক নষ্ট কইরেন না। এতেই বোঝা যায় তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালিয়াতীর মাধ্যমে প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া খাটিয়ে সরকারি চাকরি হাসিল করায় প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তথ্য গোপন করে সরকারি সুবিধা ভোগ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠে এসেছে।