ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে হাইওয়ে থানার সামনে গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে একটি প্রাইভেটকার থেকে প্রকাশ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাচান আমিনের ভাষ্য, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেটকার। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের ওপর গাড়িটি রেখে এক যুবক ও এক তরুণী চা পান করতে নামেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন গাড়িটি সড়কের পাশে সরিয়ে রাখার অনুরোধ করলে ওই যুবকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
হাচান আমিন জানান, পরে ওই যুবক প্রাইভেটকারে উঠে একটি পিস্তল বের করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এ সময় তাঁকে স্থানীয়দের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলতে দেখা যায় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে গুলি ছোড়ার ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা স্থানীয় যুবক টিপু খান (২১) বলেন, তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ওই এলাকায় বসে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইভেটকারটি সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে রাখা দেখে তিনি গাড়িটি ঠিকভাবে পার্ক করার জন্য চালককে অনুরোধ করেন। এতে ওই যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে গাড়ি থেকে পিস্তল নিয়ে তাঁর পা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে টিপু খানের দাবি।
টিপু খান আরও বলেন, তিনি দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলির আঘাত থেকে রক্ষা পান। তাঁর দাবি, ওই যুবক পরে গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গাড়ির নম্বর দেখতে না পারায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নম্বরটি পুলিশকে জানাতে পারেননি। তবে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান এবং থানায় অভিযোগ করার কথা বলেন।
টিপু খানের আরও দাবি, ঘটনার সময় ওই যুবকের আচরণ অস্বাভাবিক ছিল এবং তাঁর শরীর ও গাড়ি থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গুলি ছোড়ার দৃশ্যের ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির সত্যতা ও এতে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। পরে তাঁকে গুলি ছোড়ার ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা, গুলি ছোড়ার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।