জুলাই ২০২৬ রংপুরে পারিবারিক একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে এক সাংবাদিককে ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলকারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ২০২৬ রাত ১১টা ১৮ মিনিটে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন আসে। কলকারী নিজেকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের ফুফু ও ফুফাতো বোনকে ঘিরে চলমান পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে প্রশাসনিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়ে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং সবসময় আইন ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বিরোধের সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে মানসিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, যদি কলকারী প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকারি কর্মকর্তা না হয়ে থাকেন, তাহলে এটি সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার ও প্রতারণার শামিল। আর যদি সত্যিই কোনো সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন, তবে তার আচরণের বিষয়টিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার ফোনালাপের রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কলকারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিক মহলের অভিমত, পেশাগত পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, প্রতারণা বা হুমকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।