সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইয়াকুব উল্লা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা, সহকারী শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ৯ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাশ স্কুলে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখেন তার কক্ষে তালা ঝুলছে। প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক বেলাল আহমদ বিলাল এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কামাল মিয়া, শামসুল হক, মানিক মিয়া, শাহীন মিয়া ও মোকাব্বীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার চেয়ার থেকে জোর করে উঠিয়ে লাঞ্ছিত করে বের করে দেন। বিলাল হোসেন কিছুক্ষণ ওই চেয়ারে বসে থাকেন। এ সময় গণিতের শিক্ষক বিষয়টি জানতে আসলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। তারপর বিদ্যালয় কক্ষে তালা মারেন প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন বিলাল।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাশ বলেন, আমি যথারীতি আমার কক্ষে পরীক্ষার কাগজপত্র যাচাই করছিলাম। হঠাৎ প্রত্যাহারকৃত শিক্ষক বেলাল হোসেন বিলাল এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালীকে নিয়ে আমার কক্ষে ঢুকে আমাকে লাঞ্ছিত করে কক্ষে তালা মেরে দেয়। গণিতের শিক্ষককে মারধর করে আহত করে। আমার কক্ষে তালা মারার কারণ জানতে চাইলে আমাকে লাঞ্ছিত করে হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার চরম ব্যাঘাত ঘটছে। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের সামনে এমন জঘন্য ঘটনার বিচার চাই। ঘটনার পরপরই স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হন শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
দশম শ্রেণির ছাত্র পল্লব সরকার বলেন, “যারা এই ধরনের কাজ করেছেন এটি খুবই জঘন্য কাজ। আমাদের গণিতের শিক্ষকও আহত হয়েছেন। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ফুজায়েল মিয়া বলেন, প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা মেরেছেন এবং কয়েকজন শিক্ষককে অপদস্থ ও আহত করেছেন। আমরা স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।
অভিভাবক সাইফুল আলম বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্কুলে পাঠাই। পরীক্ষার দিনে যদি এভাবে কক্ষে তালা মেরে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়? প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী ঘটনার বিষয়ে খবর পেয়ে স্কুলে যান। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা অনভিপ্রেত। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি কৌশিক রায় বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আরিফুল হক বলেন, স্কুলের শান্তি শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুরো ইউনিয়নজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত তালা খুলে পাঠদান ও পরীক্ষা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন বিলাল বলেন, আমার কাছে হাইকোর্টের রায়ের কাগজ আছে। এই বলে আমি আমার চেয়ার দখল করে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা মেরে দিয়েছি। আমি আমার ন্যায্য হিসাব চাই।