দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফি পরিবহনকে ঘিরে রুট পারমিটবিহীন বাস পরিচালনা, অবৈধ অর্থ আদায় এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন এক চিত্র উঠে এসেছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ঢাকাগামী রুটে সেলফি পরিবহনের বাসগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে ছেড়ে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালান। এক বাস অন্য বাসকে ওভারটেক করতে বাধা দেওয়া, মাঝসড়কে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই রুটে চলাচলকারী কিছু বাসের বৈধ রুট পারমিট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ‘গেটলক পাস’ বা ‘জিপি’ বাবদ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। পাটুরিয়া কাউন্টার থেকে প্রতিদিন চলাচলকারী প্রায় দুই শতাধিক বাস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে যায়। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাঠপর্যায়ে সুলতান নামে এক ব্যক্তি অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, এটি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সংগ্রহ করা অর্থ। পরে তিনি বলেন, সংগৃহীত অর্থ ঢাকায় সেলফি পরিবহনের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলফি পরিবহনের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বরঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারী যানবাহন এবং যানজট সৃষ্টি বা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও সচেতন মহলের দাবি, শুধু ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা সংশ্লিষ্টদের ফোন কল রেকর্ড (সিডিআর), আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বৈধ রুট পারমিট যাচাই করে অনিয়মে জড়িত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।