টাংগাইল, ধনবাড়ী টানা বৃষ্টি ও নদ-নালা না থাকায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বন্ধ হাওড়া গ্রামের মূল সড়কটি ধসে পড়ে পুকুরে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বন্ধ হাওড়া মোড়ের পশ্চিম পাশে প্রায় ৪০-৫০ ফুট সড়কের মাটি সরে গিয়ে অর্ধেক রাস্তা এখন পুকুরের পানিতে। এতে বন্ধ হাওড়া, নতুন বাজার ও উত্তর যদুনাথপুরের প্রায় ৮ হাজার মানুষের চলাচল হুমকির মুখে।
সরেজমিনে
বন্ধ হাওড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মো. আলীর বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার এক পাশ পুরোপুরি ধসে পুকুরে চলে গেছে। বাকি অর্ধেক রাস্তায় বড় বড় ফাটল। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার নিচের বালি-মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় পুরো রাস্তাটি ধসে পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
স্থানীয়রা বাঁশ, গাছের ডাল ও লাল নিশান দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাটি চিহ্নিত করে রেখেছেন। অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও গর্ভবতী নারীদের পার হতে চরম কষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
গত ১০ দিন ধরে বৃষ্টি। পানি যাওয়ার কোনো ড্রেন নাই। সব পানি রাস্তার নিচ দিয়ে পুকুরে পড়ে। পরশু রাতে বিকট শব্দে রাস্তার অর্ধেক পুকুরে ভেঙ্গে গেছে। এখন রাতে ঘুমাতে পারি না, কখন জানি কোন ব্যক্তি বা গাডি পুকরে পরে দুর্ঘটনা শিকার হয়।
বন্ধ হাওড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা ধান, সবজি হাটে নেই। রাস্তা ভেঙে গেলে ৩ গ্রামের মানুষ পঙ্গু হয়ে যাবে। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাব কিভাবে? অ্যাম্বুলেন্স তো আসবেই না।চারি শিমুল
দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ মাস্টার বলেন, “আমাদের স্কুলের ১২০ জন শিক্ষার্থী এই রাস্তা দিয়ে আসে। রাস্তা পুরো ভেঙে গেলে স্কুলই বন্ধ করে দিতে হবে।
জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.আব্দুল্লাহ মেম্বার বলেন, “বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে জানিয়েছি। এটা LGED এর সড়ক। জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ও বাঁশের পাইলিং করে রাস্তাটি রক্ষা করা দরকার। না হলে বর্ষায় পুরোটাই ভেঙ্গে শেষ হয়ে যাবে।
যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলেন, আমি আজই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাব। দ্রুত বরাদ্দ এনে রাস্তা মেরামত ও পুকুরপাড়ে রিটেইনিং ওয়াল করতে হবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস নুরজাহান আক্তার সাথী বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে আজই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জরুরি বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে। জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জরুরি ভিত্তিতে ধসে যাওয়া অংশ মেরামত করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয় জনগণ
বলেন প্রতি বছর বর্ষায় এখানে রাস্তা ভাঙে। এবার একবারে স্থায়ী সমাধান চাই। বন্ধ হাওড়া গ্রামের এই সড়কটি ৩ গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র পথ। দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়া।