কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্রিস্টাল মেথ (আইস), একটি জি-৩ রাইফেল, একটি দেশীয় এলজি, একটি ম্যাগাজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং একটি ইজিবাইক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে অভিযানে জড়িত সন্দেহভাজনরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইক ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ সাবরাং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ডেইলপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় ডেইলপাড়া-মুন্ডার ডেইল সড়ক দিয়ে মাদক, দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় চালান পাচারের চেষ্টা হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিজিবি সদস্যরা এলাকায় ত্রিমুখী ফাঁদ পেতে কৌশলগত অবস্থান নেন।
ভোর প্রায় ৪টার দিকে একটি ইজিবাইক সাবরাং বাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশির জন্য থামার সংকেত দেন। এ সময় ইজিবাইকে থাকা ব্যক্তিরা যানটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে পরিত্যক্ত ইজিবাইকে তল্লাশি চালিয়ে চালকের আসনের নিচে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ইজিবাইকের ছাদের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি জি-৩ রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি ম্যাগাজিন এবং ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), একটি জি-৩ রাইফেল, একটি দেশীয় এলজি, একটি ম্যাগাজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং একটি ইজিবাইক। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১০ কোটি ৪ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত অপরাধ দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, ইজিবাইক ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।