নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা গ্রামের একটি ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, হামলা, বসতবাড়ি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুমাইয়া লতা ও এরশাদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গোলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ২০১৩ সালে আমিনুর রহমানের কাছ থেকে একটি জমি বৈধভাবে ক্রয় করা হলেও আজ পর্যন্ত দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। জমির মালিকানা ও দলিল বুঝে নিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জহুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য সুমাইয়া খাতুনকে মারধর করেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এছাড়া পরিবারের এক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে আলী হোসেন, আব্দুল আলিম ও নূরজাহান বেগমের বাড়িতে ভাঙচুর, জমি দখলের অপচেষ্টা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এসব ঘটনার বিষয়ে জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ ও এজাহার দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে এবং পুনরায় হামলার হুমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম (পিতা-মৃত জসিম উদ্দিন) ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার নিরীহ মানুষের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো- ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের সদস্য ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হতে হয়, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি অভিযুক্তকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে ভুক্তভোগী পরিবার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে। অভিযুক্ত জহুরুলের কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।