লালমনিরহাটে শিশু রিয়ামনি ধর্ষণের আলোচিত মামলায় দীর্ঘ আট বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজন লালমনিরহাট সদর উপজেলার তালুক খুটামারা এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে। ওই দিন আট বছর বয়সী শিশু রিয়ামনি তার মায়ের সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিল। তারা লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সুজন নামে এক যুবক শিশুটিকে ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে কাছের এয়ারপোর্ট এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শিশুটির কান্না ও চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে সুজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আট বছর ধরে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামি সুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল। খোদ কোর্ট চত্বরের মতো নিরাপদ স্থানের পাশ থেকে শিশুকে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।”
আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে এবং শিশু নির্যাতন রোধে একটি কঠোর বার্তা দেবে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারও স্বস্তি পেয়েছে।