ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চকরিয়ায় সংঘটিত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ১১ জন ছাত্রনেতার ভূমিকা স্মরণ করেছেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হুমায়রা তাসনীম মুন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কখনো কোনো ব্যক্তি বা একক সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে হুমায়রা তাসনীম মুন বলেন, চকরিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এসব তরুণ ছাত্রনেতা নিজেদের সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। নানা প্রতিকূলতা, ভয়ভীতি ও চাপের মধ্যেও তারা আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে অবস্থান নেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করে এবং গণআন্দোলনের শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করে তোলে।
হুমায়রা তাসনীম মুনের দেওয়া তথ্যমতে, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ১১ জনের মধ্যে তিনি নিজেও ছিলেন। অন্যরা হলেন— ইব্রাহিম ফারুক ছিদ্দিকী, সায়েদ হাসান, মোবারক হোসেন জিহান, শামসুল আলম সাঈদী, সাইমুল হাসান জামশেদ, শাহাদাত নাদিম অভি, মোহাম্মদ ইয়ামিন, তৌহিদুল ইসলাম জাহেদ, সাঈদুল ইসলাম এবং জিয়াউর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, প্রথম সারির এসব ছাত্রনেতার পাশাপাশি দ্বিতীয় সারির অসংখ্য কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অনেক কর্মীর অবদান এখনো যথাযথভাবে আলোচিত হয়নি।
তাদের মতে, চকরিয়ার গণআন্দোলনের ইতিহাসে এসব তরুণ নেতৃত্বের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা অসংখ্য কর্মী ও সাধারণ মানুষের ত্যাগও ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চকরিয়ার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।