কালের আবর্তে গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের জাতীয় খেলা হাডুডু (কাবাডি)। একসময় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই খেলা। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায়ও এর ব্যতিক্রম নয়। অথচ কয়েক বছর আগেও এই অঞ্চলের পাড়া-মহল্লায় বিকেল হলেই বসতো হাডুডু খেলার উৎসব মুখর আসর।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও ক্রীড়ামোদিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় হালুয়াঘাটের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তরুণ ও যুবকেরা দল বেঁধে এসে হাডুডু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো। জয়-পরাজয়ের চেয়েও সেখানে বড় হয়ে উঠতো সামাজিক মেলবন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া, মোবাইল ফোনের আসক্তি এবং সবচেয়ে বড় কারণ—খেলার মাঠের চরম সংকট; এই তিনের কারণে ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ বিলুপ্তির পথে।
বর্তমানে উপজেলায় উন্মুক্ত মাঠের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যেখানে আগে তরুণরা বিকেল বেলা ধুলো উড়িয়ে হাডুডু খেলতে মেতে উঠতো, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে বহুতল ভবন কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো। পর্যাপ্ত স্থান ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নতুন প্রজন্ম এই খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, গ্রামীণ এই ঐতিহ্য রক্ষা করা এবং তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও শারীরিক গঠনে সক্রিয় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই লক্ষ্যে হালুয়াঘাট উপজেলার ইউএনও ফয়সাল আহমেদের নিকট বিশেষ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসন যদি উদ্যোগ নিয়ে যুব সমাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে এবং নিয়মিত হাডুডু টুর্নামেন্টের আয়োজন করে, তবে হয়তো হারিয়ে যাওয়া এই জাতীয় খেলাটি আবার সীমান্তে তার পুরনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।