প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এলেই ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলা শহর যেন পরিণত হয় এক খণ্ড সবুজ উদ্যানে। সাপ্তাহিক হাটের দিন উপজেলা হাসপাতালের কোল ঘেঁষে জমে ওঠে রঙ-বেরঙের ফলদ, বনজ ও সবজি চারা গাছের বিশাল বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে দিনভর মুখরিত থাকে এই চারা হাট।
সরেজমিনে হালুয়াঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের পাশের খোলা জায়গায় সুবিন্যস্তভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হাজারো জাতের চারা। এখানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও কুলের (বড়ই) মতো বারোমাসি ও মৌসুমি ফলদ চারার পাশাপাশি মিলছে লাউ, শিম, বেগুনসহ নানা জাতের সবজি চারা। বিক্রেতারা জানান, বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এখন চারার চাহিদা তুঙ্গে। সাশ্রয়ী দাম ও মানসম্মত চারা পাওয়ায় সাধারণ মানুষও সানন্দে কিনে নিচ্ছেন তাঁদের পছন্দের গাছ।
এই চারা হাটের হাত ধরে এলাকায় শুরু হয়েছে এক নীরব কৃষি বিপ্লব। হাট থেকে চারা কিনে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নিজেদের বসতবাড়ির সামনের ছাদ বা অল্প খালি জায়গায় গড়ে তুলছেন ছোট্ট সবজি বাগান ও ফলের গাছ। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নিজের হাতে ফলানো বিষমুক্ত সবজি ও ফল পাওয়ার আনন্দে মেতে উঠছেন সব বয়সের মানুষ।
স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “সাপ্তাহিক হাটে এসে দরকারি সওদার পাশাপাশি ২-৪টি সবজি ও ফলের চারা নিয়ে যাই। ঘরের সামনের অনাবাদি জায়গায় এগুলো রোপণ করে এখন তা থেকে তাজা সবজি পাচ্ছি, দেখতেও ভালো লাগে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হালুয়াঘাটের এই চারা বাজারের প্রসার পারিবারিক কৃষিকে উৎসাহিত করছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।