হাইকোর্টে মামলা পরিচালনা ও অনুকুলে আদেশ এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওএমএস ( ওপেন মার্কেট সেল) ডিলারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ( খুলনা বিভাগীয় ওএমএস ডিলার) ফাঁস হওয়া কথোপকথনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীরা দির্ঘ দিন ধরে টাকা দিয়েও কোন সমাধান না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী দের অভিযোগ, বিগত সরকারের একজন মন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ধারী ( অভিযুক্তের নামের আদাক্ষর “খ”) ওএমএস ডিলারদের বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের কথা বলে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন এবং বিষয়টি সুনির্দিষ্ট তদন্তে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ডিলারদের ক্ষোভের ঝড় :
ফাঁস হওয়া চ্যাটের বিবরন অনুযায়ী, বাগেরহাটের মাসুফ নামের এক ওএমএস ডিলার গ্রুপে লেখেন, ” মামলার কথা বলে খালিদ ভাই টাকা নিলেন ৮২ হাজার টাকা। জুলাই মাসের ২ তারিখ ফোন দিয়ে বলেন মামলার রায় পেয়েছি তাড়াতাড়ি ৩০ হাজার টাকা পাঠান। বিকাশ করে দিলাম। আমি যখন বললাম রায়ের কপি দেন, না দিলে আমার টাকা দেন। ঠিক তখনই আমাকে গ্রুপ থেকে আউট করে দিলেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, খুলনা অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোন সন্তোষজনক উওর দেওয়া হয়নি। মেহেরপুর জেলা থেকে যুক্ত অপর এক ডিলার মোঃ তুফান জানান, রায় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোর্ট কেসের নথিপত্র বা রায় পাওয়া যায়নি।
১ থেকে দেড় কোটি টাকা তোলার অভিযোগ : গ্রুপের একাধিক কথোপকথনে ডিলাররা দাবি করেন, হাইকোর্টে একটি কেস ফাইল করতে সেখানে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে খুলনা বিভাগ থেকে আনুমানিক এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা তোলা হয়েছে। অথচ মামলা বা রায়ের কোন হদিস মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় এবং ডিলারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমান অর্থের সঠিক হিসাব না মেলায় সাধারণ ডিলারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। টাকা ফেরত চাওয়ায় অনেক ডিলারকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আইনি নথির অনুপস্থিতি : গ্রুপের সদস্যরা জানান, হাইকোর্টের ১০ নম্বর কোর্টে মামলাটি সচল আছে বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে তল্লাসি চালিয়েও উক্ত কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার কোনো নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে ডিলারদের মনে বিশ্বাস জন্মেছে যে, রায়ের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে তাঁদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এসি রুমে থাকা এবং ভিআইপি হোটেলে খাওয়ার পেছনে সাধারণ ডিলারদের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করা হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা : এদিকে ওএমএস ও টিসিবি ডিলারদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই গুরুতর অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। ডিলারদের কাছ থেকে কিভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে, লেনদেনের মাধ্যম কি ছিল এবং এই সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত – সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে, সাধারণ ডিলারদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন : ভুক্তভোগী ওএমএস ডিলাররা এখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং এই কথিত মামলার নামে চলা প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের উধর্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় ভুক্তভোগীরা সম্মিলিতভাবে আইনি পদক্ষেপ ও খুলানায় এসে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন।