গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাইসিকিউরিটি) থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌলিক রেশনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল বিক্রির নামে এক হাজার কেজি বা ৪০ বস্তা চাল বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারাগারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি একটি অটোরিকশাযোগে ৪০ বস্তা চাল বাইরে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “কাশিমপুর আইসিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৌলিক রেশনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক হাজার কেজি চাল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সখীপুর এলাকার সাবিহা ফিফা এন্টারপ্রাইজের নিকট বিক্রি করা হয়েছে।” ওই প্রত্যয়নপত্রকে কেন্দ্র করে চাল বিক্রির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের রেশন গুদামের দায়িত্বে থাকা নাজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি চাল বুঝিয়ে দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বন্দিদের খাদ্যের জন্য বরাদ্দকৃত চালই বাইরে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কাশিমপুর কারাগার থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাগর অটো রাইস মিলসের “সাগর স্পেশাল” পাইজাম চাল বিভিন্ন সময় রেশনের নামে বাইরে বিক্রি করা হয়ে থাকে। গোপন সূত্রের দাবি, কারাবন্দীদের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল গভীর রাতে বিভিন্ন সময় বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পুলিশ সেবা জরুরি নম্বরে খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০ বস্তা চাল জব্দ করে বলে জানা গেছে। জব্দকৃত চালের উৎস এবং সেগুলো কারাগারের রেশনসামগ্রী কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাইসিকিউরিটি) এর সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, কারাগারের রেশনসামগ্রী বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে