নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবস্থিত বিশনন্দী হাজ্বী খোকন উচ্চ বিদ্যালয়। গত ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। বিদ্যালয়টির দীর্ঘ ২২ বছরের পথ চলায় এখনো উন্নতি যেনো অধরা। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও কক্ষসহ খেলাধুলার মাঠ নেই। বিষয়টি সব মহলে অবগত থাকলেও পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। এ বিদ্যালয়টি নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিন জেলার মিলনস্থল মেঘনা নদীর পাড়ে বিশনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত। শ্রেণি কক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের বারান্দায় পড়াশুনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ বিদ্যালয়ের যাত্রা ২২ বছর পেরোলেও এখন পর্যন্ত হয়নি লাইব্রেরি, সাধারণ কক্ষ ও শিক্ষকদের অফিস। এ দুর্ভোগ যেনো অন্তহীন। এসব বিষয়ে জানতে কথা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আকবরের সাথে, তিনি বলেন, আমি ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী এখানে যোগদান করি। সর্বশেষ ১০ বছর ধরে চাকুরীকালীন কোনো ধরনের উন্নয়নের ছিটেফোঁটা দেখতে পাইনি। বিষয়টি উপরমহলে অবগত করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন মহোদয় এবং প্রতিষ্ঠাতা মো. সাখাওয়াত হোসেন সাকু তাঁরা চেষ্টা করছেন বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নতির জন্য এবং সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। এখানে বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাতে হয়। এতে শিক্ষার মান ব্যহত হচ্ছে। পিছিয়ে যাচ্ছে মেধা চর্চা। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি না হওয়ায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বাঁধ-প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় কথা হয় নবম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীরদের সাথে, তাঁরা বলেন, এখানে পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ না থাকায় আমাদের বাইরে ক্লাস করতে হচ্ছে। বারান্দায় বসে লেখাপড়া করছি এবং গরমের দিনে আমরা অসহনীয় হয়ে উঠি, এখানে নেই কোনো ব্ল্যাকবোর্ড, যাঁর কারণে আমরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন করতে পারছিনা, এছাড়া নেই আমাদের খেলাধুলার মাঠ। নানা সমস্যার কারণে আমরা লেখাপড়া ও খেলাধুলা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের আঙ্গিনার বেশিরভাগই মেঘনা নদীর পানির নিচে। যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অভাবে মেধা ও মানসিকতার চর্চায় অবনতি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট উপরমহলের নজরদারি ও পদক্ষেপের জোর দাবি করছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন মহল।