ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি User ID ব্যবহার এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে এক বহিরাগত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ‘স্বপন’ নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভূমি অফিসের কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও নিয়মিত অফিসে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকেন।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো, স্বপন শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের সরকারি User ID ব্যবহার করে ভূমি সংক্রান্ত সার্ভারে কাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সত্য হলে সরকারি সার্ভারের নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা, নাগরিকের ভূমি সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা এবং দাপ্তরিক জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।
কর্মকর্তা নন, তবুও ভূমি অফিসে নিয়মিত অবস্থান স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বপনের কোনো সরকারি পদ বা দায়িত্ব নেই। এরপরও তাকে নিয়মিত শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবস্থান করতে এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়।
একজন বহিরাগত ব্যক্তি যদি সরকারি ভূমি অফিসে নিয়মিত বসে দাপ্তরিক কাজে যুক্ত থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তিনি কার অনুমতিতে সেখানে কাজ করছেন? তাঁর দায়িত্বের পরিধি কী? কোনো সরকারি অফিস আদেশ বা লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না?
নাছির উদ্দিনের User ID কি স্বপনের ব্যবহারে?অভিযোগের মূল বিষয় হচ্ছে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের সরকারি User ID ব্যবহার করে স্বপন ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করেন।
এ অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকারি সার্ভারে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর User ID ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তি কাজ করলে সেই কার্যক্রমের দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, স্বপন যদি সত্যিই ওই User ID ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তাঁকে এই সুযোগ কে দিয়েছেন? কোনো লিখিত অনুমোদন থাকলে সেটি কোথায়? আর অনুমোদন না থাকলে সরকারি User ID অন্য ব্যক্তির ব্যবহারে গেল কীভাবে?
কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন অভিযোগের বিষয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি স্বপনকে চেনেন না বলে জানান।
তবে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানের সময় স্বপনকে তাঁর পাশের টেবিলে বসে কাজ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি স্বপনকে তিনি না চিনে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে সরকারি ভূমি অফিসে তাঁর পাশের টেবিলে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন? আর যদি স্বপন কোনো বৈধ দায়িত্বে সেখানে কাজ করে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন?
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও স্বপনের অবস্থানসহ সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সার্ভার লগেই বের হতে পারে প্রকৃত তথ্য অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে সংশ্লিষ্ট User ID-এর সার্ভার লগ ও ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা করা।
তদন্তে দেখা যেতে পারে—নাছির উদ্দিনের User ID দিয়ে কখন লগইন করা হয়েছে, কোন ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক থেকে প্রবেশ করা হয়েছে, কী ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে কে অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি এবং User Activity History যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
বহিরাগত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও একজন ব্যক্তি যদি ভূমি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমে নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে তাঁর বৈধ দায়িত্ব ও অনুমোদনের বিষয়টি জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বপনকে ঘিরে ভূমি অফিসে এমন এক ধরনের প্রভাব তৈরি হয়েছে, যার কারণে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তাঁর পেছনে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা বা প্রশ্রয় রয়েছে কি না—তাও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ভূমি অফিসে নাগরিকদের জমি, মালিকানা, নামজারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এসব তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু দাপ্তরিক শৃঙ্খলার বিষয় নয়, তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ও বটে।
তাই কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সত্যিই সরকারি User ID ব্যবহার করছেন কি না—তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাভার উপজেলা ও জেলা ভূমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট User ID-এর Login History, Server Access Log, User Activity Report, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে স্বপনের বক্তব্য, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি উঠেছে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তসাপেক্ষ। যথাযথ প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য নয়।
সরকারি ভূমি অফিস জনগণের সেবা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির অননুমোদিত সম্পৃক্ততা কিংবা সরকারি User ID ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশ করা জরুরি। এখন প্রশ্ন একটাই—নাছির উদ্দিনের সরকারি User ID কি সত্যিই ‘স্বপন’ ব্যবহার করছেন? যদি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সেই অনুমোদন কোথায়, আর এর দায়ভারই বা কার?