ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় মো. আ. মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ / ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আ. মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়া পাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী
মামলার এজাহার ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত অনুমান ৮টার দিকে রাণীশংকৈল থানা এলাকার বাসিন্দা মামলার এজাহারকারী তার ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কন্যাসন্তানকে ঘরের কাঠের খাটে শুইয়ে রেখে পাশের বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরে শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, প্রতিবেশী আসামি মো. আ. মমিন তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছে। এ সময় এজাহারকারী তাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করলে আসামি ধাক্কা দিয়ে নিজের স্যান্ডেল ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ও সাক্ষীরা এগিয়ে আসেন এবং ভিকটিমকে রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবার আসামির ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইলে তিনি বিচার না করে উল্টো হুমকি-ধামকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ সময়ক্ষেপণ করায় ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডিত আসামির কাছ থেকে আদায়কৃত ২ লাখ টাকার অর্থদণ্ড ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১৬ ধারা মোতাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ ভিকটিমকে প্রদান করা হবে।
এছাড়া, ফৌজদারি কার্যবিধির (The Code of Criminal Procedure) ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামির পূর্বের হাজতবাসকালীন সময় মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে দণ্ডিত আসামি মো. আ. মমিনকে কারাগারে প্রেরণের জন্য জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট জনাব মো. এনতাজুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জনাব শেখ ফরিদ।