”জনসাধারণের স্বার্থে এই উদ্যোগ” — এড. রেজাউল করিম রেজা। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশন থেকে মিয়ানমারে পাচারকালে ৩ বস্তা সার ও একটি মিনি টমটম জব্দ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় এগুলো আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত সার ও টমটম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, সার পাচারের খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরানের নেতৃত্বে পালংখালী স্টেশনের তিনটি সারের ডিলারের গুদামে বিশেষ পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরানের সাংবাদিকদের জানান, “আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পালংখালী বাজারের ডিলার পয়েন্টগুলো পরিদর্শনে আসি। সবগুলো ডিলারে খতিয়ে দেখার পর কিছু অনিয়ম ও গরমিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘ইব্রাহিমের ডিলার’-এ দৈনিক রেজিস্টার খাতা হালনাগাদ লেখা ছিল না, তবে গতকালকের সারের বরাদ্দ ঠিক পাওয়া গেছে। এরপর ‘আব্দুর রহিমের ডিলার’ পরিদর্শনে দেখা যায়, তিনি গত দুই মাস কোনো বরাদ্দ পাননি, তবে সেখানেও দৈনিক রেজিস্টার খাতা মেইনটেইন করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সর্বশেষ ‘সেলিম ডিলার’ পরিদর্শন করে দেখা যায়, সেখানে সব ঠিকঠাক থাকলেও গত ২ বছরের হিসাব অনুযায়ী ২৪ বস্তা সার কম পাওয়া গেছে। আমরা সামগ্রিক বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া এই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেরের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযান ও সার জব্দের বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন: “আমি বেশ কয়েকদিন ধরে শুনতেছিলাম যে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে হাজার হাজার বস্তা সার পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে গতকাল আমি আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করি। তাঁরই নির্দেশক্রমে আজ সকালে আমরা পালংখালী স্টেশনে অবস্থান নিই। সকাল ৯টার দিকে সীমান্ত অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি মিনি টমটম তল্লাশি করে ৩ বস্তা সারসহ হাতেনাতে আটক করি এবং পরে তা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করি। জনসাধারণের স্বার্থে আমাদের এই সর্তক অবস্থান ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
আজ সকালের এই তৎপরতা ও পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন মেম্বার, পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহ আলম, উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশেক ইলাহি রুবেল এবং উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছৈয়দ নুরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনতা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।