গত ১৬ জুন ২০২৬: মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন মো:আবু সাঈদ ও জেলা পরিষদের প্রশাসাক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সিভিল সার্জন ও এস পি মহোদয় আব্দুর রুউফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে “আলেম ও যুব সমাজের অংশগ্রহণে মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে করণীয়” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন মাদরাসার আলেম-ওলামা, ইমাম, খতিব, বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তির বর্তমান পরিস্থিতি, এর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপথগামী করে না; এটি একটি পরিবারের শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মাদকের কারণে তরুণদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় সমাবেশে মাদকের কুফল তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে পড়বে। বিশেষ করে জুমার খুতবা, ওয়াজ মাহফিল এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় মাদকবিরোধী বার্তা প্রচারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।
কর্মশালায় যুব সমাজের ভূমিকার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকবে এবং দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এছাড়া পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া এবং তাদের চলাফেরা ও সামাজিক মেলামেশার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন, তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং একটি নিরাপদ, সচেতন ও মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।