সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতি কন্যা খ্যাত জাফলং পিকনিক স্পটে পর্যটকদের গাড়ি রাখার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভ্রমণপিপাসুদের সৌন্দর্য উপভোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানো এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা ‘বাড়া’ হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু এই টাকা কোথায় যায় এবং কার অনুমতিতে এসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাফলং জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত পার্কিং এলাকাসহ পিকনিক স্পটের বিশাল অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি দোকান কোঠা রয়েছে । আগে যেখানে পর্যটকরা সহজেই গাড়ি রেখে পিয়াইন নদী ও মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতেন, এখন সেখানেই বসেছে দোকানপাট। ফলে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকায় পর্যটকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।পর্যটকদের জন্য জাফলং শুধু একটি ভ্রমণস্থল নয়, এটি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। কক্সবাজারের মতো অন্যান্য পর্যটন স্পটে পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারি তদারকি থাকলেও জাফলংয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ দখল ও অর্থ আদায়।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বরং এর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জাফলং পিকনিক স্পটের জমির প্রকৃত মালিকানা ও দোকান থেকে আদায়কৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে আনা হোক। তবেই এই অনিয়মের বৃত্ত ভাঙা সম্ভব হবে এবং জাফলং তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে।