মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসারা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরও বিল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে হাসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রওশনারা বেগম উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য রওশনারা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৬ সালের জুন মাসে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিবাড়ি এলাকায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের একটি সিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ তাকে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত ৫৬ ফুট রাস্তার কাজ করে তিনি মোট ২৩০ ফুট রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।
তার দাবি, নির্ধারিত কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত অংশের কাজ সম্পন্ন করলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কোনো বিল তাকে পরিশোধ করা হয়নি। বরং চেয়ারম্যান আরও প্রায় ১০০ ফুট অতিরিক্ত রাস্তার কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তা না করলে বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রওশনারা বেগম বলেন, আমি বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শেষ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজও করেছি। কিন্তু এখনও একটি টাকাও পাইনি। এখন আবার আরও কাজ করার চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে আমি চরম বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে হাসাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোলাইমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, রওশনারাকে যে সিরিয়াল অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়েছে, সেই সিরিয়ালের সব কাজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তাকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে যে সিডিউল ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।
তবে অভিযোগকারী ইউপি সদস্যের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল তাকে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য চাপ দিয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমে কথা বলায় তার বিল আরও বিলম্বিত হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, এটি আমাদের বাস্তবায়নের কাজ নয়। ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের কাছ থেকে শুধু প্রকল্পের এস্টিমেট নিয়েছে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিল সংক্রান্ত বিষয় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক বিষয়। এখানে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জামালসহ সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত কাজ আদায়ের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা