ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্মুক্ত টেন্ডার, গণবিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং ছাড়াই ৯৫টি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গাছ বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম ও কম দামে বিক্রির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গণপিটিশন দিয়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ৩১টি মেহগনি ও ৬৪টি ইউক্যালিপটাসসহ মোট ৯৫টি গাছ সম্প্রতি ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার কম নয়। যথাযথ নিয়ম মেনে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করায় বিদ্যালয় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে বিদ্যালয়ের অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের স্বাক্ষরসংবলিত একটি গণপিটিশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পিটিশনে গাছ বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত, সঠিক মূল্য নির্ধারণ, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
গণপিটিশনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গাছ বিক্রির আগে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
রুহিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, “বিদ্যালয়ের সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, “৯৫টি গাছ ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমল রায় বলেন, “উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করেই গাছ বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।”
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহ জানান, সরকারি নিয়ম মেনে গাছ বিক্রয় হয়েছে তবে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার সাথে এব্যাপারে কথা হয়েছে উদ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পুনরায় টেন্ডার দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আক্তার বলেন, “সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত টেন্ডার, প্রয়োজনীয় গণবিজ্ঞপ্তি এবং বন বিভাগের মাধ্যমে গাছের নম্বরিং বাধ্যতামূলক। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গাছ বিক্রি করা হলে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা