একসময়ের বিশ্বস্ত ও লাভজনক ফসল ‘গম’ চাষে আবারও ফিরে পেতে চান ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকার কৃষকেরা। ধানের তীব্র খরচের বিপরীতে গম চাষে খরচ কম হলেও মিলত বাড়তি লাভ। তবে সময়ের পরিক্রমায় ধানের আবাদ বাড়লেও প্রত্যাশিত লাভের মুখ দেখছেন না তারা। ফলে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ফিরে পেতে পুনরায় গমের সোনালী শিষে মাঠ ভরিয়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা।
বিশেষ করে উপজেলার ১নং ভুবনকুড়া ইউনিয়ন, ৫নং গাজীরভিটা ইউনিয়ন এবং ১০নং ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা একসময় গম চাষের জন্য সুপরিচিত ছিল। শীতের মৌসুমে এসব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সীমান্ত জুড়ে দেখা যেত গমের দিগন্তজোড়া ক্ষেত।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধান চাষের জন্য সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর বিপরীতে গমে উৎপাদন খরচ অনেক কম, অথচ লাভজনক। পাশাপাশি, নিজেদের চাষ করা গমের সুস্বাদু আটার তৈরি খাবারের যে বিশেষ স্বাদ তারা পেতেন, বর্তমান বাজারের কেনা আটায় তা আর মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী সেই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আটার স্বাদও আজ প্রায় দুর্লভ।
ভুবনকুড়া ও ধুরাইল ইউনিয়নের একাধিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ধানে উৎপাদন খরচ এত বেড়ে গেছে যে দিনশেষে আমাদের হাতে তেমন কিছুই থাকে না। কম খরচে বেশি লাভ করার সবচেয়ে ভালো উপায় গম চাষ। আমরা আবারও পুরোদমে গম চাষে ফিরতে চাই।”
সীমান্তবর্তী এই তিন ইউনিয়নের কৃষকেরা মনে করছেন, কৃষি বিভাগ থেকে যদি উন্নত জাতের গম বীজ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সঠিক সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে হালুয়াঘাটে হারিয়ে যাওয়া গম চাষের সেই সোনালী অতীত আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।