নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের হিসেবে নিকেশ ততই পটপরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের নির্বাচনী লড়াই ভিন্ন মাত্রায় মোড় নিতে পারে
প্রার্থীদের অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভোটের হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে সাধারণ ভোটার ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশীর উপস্থিতি পুরো নির্বাচনী চিত্র বদলে দিতে পারে।
প্রার্থীর আধিক্যে সদরের ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা থাকতে পারে এমনটা ধারণা করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক সাধারণ ভোটার। এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৪ জনই হচ্ছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন: এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল: বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ প্রতীক)। এডভোকেট শামসুদ্দিন: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) ,এডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল: জাতীয় পার্টি মনোনীত (লাঙ্গল প্রতীক)
দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন: স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক),অন্যদিকে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে অনেকে ধারণা করছেন।
সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই: সদর বনাম বিশ্বম্ভরপুর ভোটের হিসেবে নিকাশে ভোট ভাগাভাগি বিষয়টি নিয়ে অংঙ্ক কষলেই এমন হিসেব উঠে আসতে পারে এমনটাই বলছেন এ আসনের ভোটাররা। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ভোটার রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সদর উপজেলার ২ লাখ ৩২ হাজার ভোট, পাঁচ জন প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হবে। এতে করে কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।
বিপরীতে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১ লাখ ৩৪ হাজার ভোটারের সামনে সদরের চার প্রার্থী ভাগ বসালেও একমাত্র স্থানীয় প্রার্থী মুফতী শহীদুল ইসলাম পলাশীর পক্ষে, যদি বিশ্বম্ভরপুরবাসী দল-মত নির্বিশেষে তাদের উপজেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হন, তবে এই বিপুল সংখ্যক ভোট পলাশীর বাক্সে পড়তে পারে। বিশ্বম্ভরপুরবাসী কি ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদের উপজেলায় এবার সংসদ সদস্য ধরে রাখতে পারবে নাকি সদর উপজেলায় চলে যাবে এমন প্রশ্নে এখন ঘুরপাক সুনামগঞ্জ ৪ এর নির্বাচনী এলাকা।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সংসদ সদস্য পদটি সদর উপজেলার প্রার্থীদের দখলে থাকায় বিশ্বম্ভরপুর উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকে পিছিয়ে আছে বলে অনেকের ধারণা। এ কারণে এবার “উপজেলার প্রার্থী” হিসেবে পলাশীকে ঘিরে ব্যাপক আবেগ ও সমর্থন তৈরি হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিশ্বম্ভরপুরের ভোটাররা মনে করেন যে তাদের উপজেলার এমপি পদপ্রার্থী ধরে রাখা প্রয়োজন, তবে প্রার্থীর দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে ‘আঞ্চলিক ঐক্য’ বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এমনটি ঘটলে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল সবাইকে চমকে দিতে পারে।
সদরের চার প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগি এবং বিশ্বম্ভরপুরের একক প্রার্থীর ভোট ব্যাংকই হবে এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারনের সহায়ক—এমনটিই মনে করছেন সুনামগঞ্জ ৪-সদর-বিশ্বম্ভরপুরের ভোটাররা।