নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দুর্লভপুর এতিমখানা শিশু সদনের সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া তথ্য প্রদান এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপার জাহিদুল ইসলাম রিকুর বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০১ সাল থেকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এতিম শিশুর উপস্থিতি পাওয়া যায় না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কার্যকর কোনো পরিচালনা কমিটি নেই এবং সুপার এককভাবে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। কাগজে-কলমে এতিমের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে সরকারি অনুদান উত্তোলনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগকারী দাবি করেন, এতিমদের নামে প্রাপ্ত সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগকারী দুদকের কাছে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত এতিমদের উপস্থিতি যাচাই, আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব অডিট এবং অনুদানের অর্থ ব্যবহারের তথ্য খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুপার জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো প্রমাণিত নয়।