সন্তানরা ইউরোপ প্রবাসে। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ বাবা একাই আগলে রেখেছিলেন পৈতৃক ভিটেমাটি। সেই নিঃসঙ্গতার সুযোগ নিয়েই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টায় তার ওপর চালানো হয় নৃশংস হামলা। লোহার রডের আঘাতে ভেঙে যায় সামনের তিনটি দাঁত, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ছিনিয়ে নেয় তার পকেটে থাকা নগদ ৭২ হাজার ২০০ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বারগোপী গ্রামে।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া রাসেল আহমদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আসামি পাভেল এখনও পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বারগোপী গ্রামের বাসিন্দা হাজী মৌর আলীর সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিকটাত্মীয়দের একটি পক্ষ তার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ জুন দুপুরে নিজ বাড়ির পাশে হাজী মৌর আলীর পথরোধ করেন আব্দুল হান্নান, রাসেল আহমদ ও পাভেল। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল হান্নানের নির্দেশে রাসেল লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এতে রডের আঘাত মুখে লেগে উপরের পাটির সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে পাভেল বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা নগদ ৭২ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোফাখ খারুল বলেন, “ঘটনার পর ৫ জুলাই প্রধান আসামি আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দ্বিতীয় আসামি রাসেল আহমদকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।