শেরপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ রোববার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। তাই বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বজনীন এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে এখন মন্দির ও পূজা মণ্ডপগুলোয় চলছে সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বরণ করতে সর্বত্র সাজ সাজ রব। প্রতিমা নির্মাণে প্রতিমাশিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। প্রতিমাশিল্পীদের এখন রাতদিন একাকার।
পাশাপাশি পূজামণ্ডপ, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত কারিগরেরা। এভাবেই শেরপুর জেলার ১৭২টি পূজামণ্ডপে এখন চলছে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিমূলক নানা আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করার আশায় উন্মুখ হয়ে আছেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
শেরপুর শহরের কয়েকটি পূজামণ্ডপে দেখা যায়, দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন প্রতিমাশিল্পীরা। পাশাপাশি কয়েকটি মণ্ডপে পোশাক পরিচ্ছদ পরিধানসহ প্রতিমা রং করার কাজও চলছে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার আবেগ নিয়ে মশার কামড় উপেক্ষা করে রাত-দিন কাজ করে চলেছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
এ সময় শেরপুর শহরের গোপালবাড়ী এলাকার বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ী বাবলু সাহার পূজামণ্ডপে সদর উপজেলার বয়ড়া পালপাড়া গ্রামের প্রতিমাশিল্পী রাজকুমার পাল বলেন, তিনি ও তাঁর কয়েক সহযোগী মিলে ২০টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। এখন প্রতিমার গায়ে পোশাক পরিধান ও রং দেওয়ার কাজ চলছে। দেবীর বোধনের আগেই এসব প্রতিমার কাজ শেষ করে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে তাঁরা এখন নির্ঘুম কাজ করছেন। রাত জেগে অনেক পরিশ্রমশেষে যখন প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয় তখন নিজের মনটা তৃপ্তিতে ভরে ওঠে।
শেরপুরের প্রখ্যাত প্রতিমাশিলপী প্রয়াত দিলীপ কুমার পালের মেয়ে বয়ড়া পালপাড়া গ্রামের নারী প্রতিমাশিল্পী যূথীমনি পাল বলেন, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ১৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এজন্য প্রতিমা ভেদে ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাবেন। তবে বর্তমান বাজারে এ পারিশ্রমিক খুবই অপ্রতুল।
জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি জীতেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা