মায়ের ডাক এর কর্মসূচিতে ৩০ আগস্ট ২০২৩ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পূর্বে গুম পরিবার এর সকল সদস্যদের নিয়ে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয়েছিল কাকরাইল ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এর মুক্তিযুদ্ধ হলে।
অনুষ্ঠান টি করাটা তখন এতো সহজ ছিলো না।
মায়ের ডাক এর ব্যানারে তখন জাতীয় প্রেসক্লাবে কোন হল বুকিং দিতে রাজি হলো না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সব হল সু- পরিকল্পিত ভাবে আওয়ামী লীগ এর দোসররা নিজেদের নামে বুকিং দেয়ে ফেলেছিলো।
তখন মায়ের ডাক এর বর্তমান মাননীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি এবং জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি যিনি কষ্ট করেছেন আমাদের আফরোজা ইসলাম আখি আপা দুজন আমাকে নিয়ে রমনা ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এ হল ভাড়া নিতে চলে গেলেন।
তুলি আপা যিনি প্রকৌশলী। ভাবলাম এখানে হল পাবো।কিন্তু ১ঘন্টা পর সাফ জানিয়ে দিলো এখানে হল দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সেই সময় তারা দুজন আমাকে দায়িত্ব দিলো যেভাবে হোক কাকরাইল ডিপ্লোমাতে হল বুকিং দিতে হবে। তখন আমি বললাম একসাথে আমরা গিলে সেখানেও হল পাবো না।তারপর সিদ্ধান্ত হলো ঠিক আছে যেভাবে পারেন যে নামে পারেন হল ভাড়া করেন। যেই কথা সেই কাজ।আমি সেদিন একা ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট গিয়ে দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ হল ফাঁকা আছে।
আমি আমার সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নামে বুকিং দিলাম।দায়িত্বরত ছিলেন ফরিদ ভাই তিনি কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এসে ভাড়ার টাকা চাইলেন আমি তখন আখি আপা কে ফোন করলাম। তারা দুই বোন এসে ভাড়া পরিশোধ করে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হলের দায়িত্বরত ফরিদ ভাই আমাকে কল দিয়ে বললেন পুলিশ এর অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান করতে পারবেন না।আমি বেকায়দায় পড়ে গেলাম তবে হাল ছাড়লাম না।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির প্যাডে পুলিশ কমিশনার বরাবর অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য আবেদন করলাম।সুকৌশলে অনুমতি নিয়ে নিলাম।বিভিন্ন নাম্বার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলি আপাকে কল দিচ্ছিলো।আমার কাছে জানতে চাইলো কি করবে? আমি বললাম মোবাইল বন্ধ করে দেন।মোবাইল বন্ধ করে দিলো।আমি অন্য একজনের নাম্বার চালু রেখে আমার নাম্বার বন্ধ করে দিলাম।মায়ের ডাক এর ব্যানার ও ফেস্টুন গোপনীয় ভাবে তৈরি করে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এর পাশে বাসা বন্ধু সাংবাদিক অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার। তার বাসায় রাতে গিয়ে সব কথা খুলে বললে সে সাহস করে বললো ঠিক আছে আমার বাসায় রেখে যা।
আমি সেদিন ভোর ৬ টায় অনুষ্ঠান স্থলে হাজির হয়ে দেখলাম শতশত পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাজির হয়েছে। আমি সবাই কে বললাম ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা যেন ছবি লুকিয়ে আনে।আর পুলিশ জানতে চাইলে যেন বলে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির অনুষ্ঠানে এসেছে। এভাবেই একটা ভয়ংকর সকাল শুরু হলো। ৯ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে অধিকাংশ ভিকটিম পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত হলো।পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করেছে আর দেখছে আসলে অনুষ্ঠান কাদের?
আমি বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির একটা ব্যানার লাগানোর অভিনয় করছিলাম।পুলিশ দেখে শিওর হলো অনুষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নামে হচ্ছে।
এর মধ্যে সময় আরো কেটে গেলো টানটান উত্তেজনা এবং টেনশন নিয়ে আমি মাইকে কথা বলতে শুরু করলাম।
এর মধ্যে বিভিন্ন রাস্ট্রের রাস্ট্রদূত যখন হলের কাছাকাছি এসে উপস্থিত হলো।সাথে সাথে অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার এর বাসা থেকে আগে নিয়োগকৃত কর্মী বাহিনী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে হাজির হলো।এর মধ্যে হলে মাহামুদুর রহমান মান্না,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, জোনায়েদ সাকি, ভিপি নুর, নুর খান লিটন, অধ্যাপক সি আর আবরার,রাশেদ সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হলে প্রবেশ করলো।আমরা দৃশ্যপট পাল্টিয়ে মায়ের ডাক এর ব্যানার দিয়ে মায়ের ডাক সংগঠন এর নামে অনুষ্ঠান শুরু করলাম।
এর আগেও জাতীয় প্রেসক্লাবে এমন ভাবে দুএকবার অনুষ্ঠান করেছি।কিন্তু সেদিন ছিলো ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং শতশত ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের আগমনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃস্টি হলো।তখন আর পুলিশের কোন কিছু করার ছিলো না।কারন বিভিন্ন দেশের রাস্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সকল গণ মাধ্যম এর সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান,ফটো সাংবাদিকরাও উপস্থিত হয়েছিল।
একটা সফল ঐতিহাসিক সভা শেষ করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম মিছিল করে বিএনপির অফিসের সামনে যাব।কারন বিকেলে গুম পরিবার এর সদস্যদের নিয়ে বিএনপির বড় সমাবেশ ছিলো।
যেই কথা সেই কাজ।আমরা ভিকটিম পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে গুম হওয়া স্বজনের ছবি প্রদর্শন করে বিশাল বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল বের করে নয়াপল্টনের দিকে ছুটে চলছিলাম।সেখানে সচিব পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ ভাই শ্লোগান দিয়েছেন।
অভিনন্দন ভিপি নুর যিনি এখন প্রতিমন্ত্রী, অভিনন্দন জোনায়েদ সাকি তিনিও এখন প্রতিমন্ত্রী। অভিনন্দন প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি।
তিনি এখন আমাদের সবার নেতা।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা