আজ আমি আমার জীবনের গল্প থেকেই কিছু কথা শেয়ার করতে চাই।
যদি আমার এই গল্প একজন মানুষকেও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, তাহলেই আমার লেখা সার্থক।
ছোটবেলাতেই আমার বিয়ে হয়ে যায়।
পড়াশোনা আর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। অথচ লেখাপড়ার প্রতি আমার ভীষণ ভালোবাসা ছিল।
আমরা চার বোন, এক ভাই। তখনকার সময় ২৬-২৭ বছর পূর্বে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতায় আমার পরের দুই বোনেরও খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়।
শুধু ছোট বোনটি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়তে পেরেছিল। তখন আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম যেন ওর পড়াশোনা বন্ধ না হয়।
কিন্তু এক বিষয়ে ফেল করার পর, বিয়ে ও সন্তানের দায়িত্বের কারণে আর পরীক্ষাই দিতে পারেনি।
আমি অনেক অনুরোধ করেছিলাম, এমনকি বলেছিলাম, তোর বাচ্চাকে আমি পরীক্ষার হলের বাইরে কোলে নিয়ে থাকব, তুই শুধু পরীক্ষাটা দিয়ে আয়। তবুও সে আর পরীক্ষা দেয়নি।😢
সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যত বয়সই হোক, একদিন আমি আবার পড়াশোনা শুরু করব।
চাকরি, সংসার, সন্তান-সব দায়িত্ব একাই সামলাতে হয়েছে।
তবুও মনের ভেতরের সেই স্বপ্ন কখনো মরে যায়নি। একদিন আমার প্রিয় বান্ধবী নিপু বলল, “আর আফসোস নয়, আজই ভর্তি হবি।” সেই দিনই আমি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেলাম।
শুরু হলো নতুন পথচলা। ইংরেজি ও গণিত প্রাইভেট পড়তাম। ব্যস্ততার মাঝেও যখন বই নিয়ে বসতাম, নিজেকে আবার স্কুল জীবনের সেই ছাত্রী মনে হতো। পড়াশোনা আমার কাছে শুধু শিক্ষা নয়, এক ধরনের আনন্দ।
কিন্তু ২০১৭ সালের জুলাই মাসে হঠাৎ আমার ক্যান্সার ধরা পড়ে। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। শরীর খুব দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস পরই পরীক্ষা। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আর পারব না। কিন্তু আমার সহপাঠীরা একদিন সবাই বাসায় এসে আমাকে সাহস দিল। তাদের ভালোবাসা আর উৎসাহ আমাকে নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি দিল।
ক্লান্ত শরীর নিয়েই আবার বই হাতে তুলে নিলাম। সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল গণিত নিয়ে। পরীক্ষার হলে আমার সহপাঠী লিজা আমাকে দুইটি অঙ্ক বুঝতে সাহায্য করেছিল। আজও সেই সহযোগিতা আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।
আলহামদুলিল্লাহ, সেই এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের স্টাডি সেন্টারে আমি সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করি।
এরপর আবার চাকরিতে যোগ দিই। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাই। আজ আমি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসএস-এর চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রী।
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আমার ছেলে আর আমি একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি।
সে জেনারেলে বিবিএ করছে, আর আমি বিএসএস করছি। মা-ছেলে দুজনই শিক্ষার্থী-এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে!
আজ আমি শুধু একটাই কথা বলতে চাই-
শিক্ষার কোনো বয়স নেই। বয়স কখনো স্বপ্নের বাধা হতে পারে না। ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়।
যারা মনে করেন, “এখন আর পড়াশোনা করে কী হবে?”, তাদের বলব,আজই শুরু করুন। কারণ শেখার যাত্রা কখনো শেষ হয় না।
সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমার নেক ইচ্ছাগুলো পূরণ করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জ্ঞান অর্জনের এই পথচলা অব্যাহত রাখতে পারি।
👸স্বপ্ন দেখতে বয়স লাগে না, আর শেখারও কোনো শেষ নেই।✨
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা