সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ভারতীয় লোশন ও ক্যাপসুল উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব না হলেও মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে র্যাব।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল নিয়মিত টহল ডিউটির অংশ হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন মথুরকান্দি বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, সলুকাবাদ এলাকার পাহাড় বিলাসের দক্ষিণ পাশে কাপনা–ডলুরা সড়কে কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে রাত ১টা ৫ মিনিটে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ২ থেকে ৩ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি খাকি রঙের কার্টুনের ভেতর থেকে ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
এর পরপরই একই রাতে আরেকটি পৃথক অভিযানে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ এর একটি দল বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন রাজাপুর এলাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, সলুকাবাদ এলাকার মুজিব পল্লীর একটি দোকানের সামনে রাস্তায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
এই সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে র্যাবের আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তা ও দুইটি খাকি রঙের কাগজের কার্টুন থেকে ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১৬০ পিস ভারতীয় লোশন এবং ২০ হাজার ৬০০টি ভারতীয় ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, পলাতক ব্যক্তিরা উদ্ধারকৃত বিদেশি মদ ও ভারতীয় পণ্য সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিল।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে অজ্ঞাতনামা পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ২৪(খ)/৪১ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।