শতাব্দীর শুরুতেই আফগানিস্তানে যুদ্ধ। তারপর ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন। এখন ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতের চক্র ভাঙছে না। প্রতিটি যুদ্ধের কারণ আলাদা হলেও ফল এক – ঘরছাড়া মানুষ, ধ্বংসস্তূপ, অনাহার।
সংঘাতের রেখাচিত্র ২০০১: ১ সেপ্টেম্বর হামলার পর আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান। ২০২১ এ তালেবানের প্রত্যাবর্তন। ২০ বছর, ১.৭৬ লাখ মৃত্যু।
২০০৩: “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” অভিযোগে ইরাক আক্রমণ। সাদ্দাম পতন। পরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও আইএসের উত্থান।
২০১৪-চলমান: ইয়েমেনে হুতি বনাম সরকার + সৌদি জোট। জাতিসংঘ বলছে বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়। ৪ লাখ+ মৃত্যু।
২০২৪-২০২৬: গাজা যুদ্ধের আবহে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়। অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর গভীরে আছে ভূ-রাজনীতি, তেল-গ্যাস, জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াই। ধর্মীয় অনুভূতি আছে, কিন্তু মূল চালিকাশক্তি রাষ্ট্র ও অর্থনীতি। মুসলিম দেশগুলোর ভেতরের বিভাজনও দায়ী।”
মানবিক বিপর্যয় ইউএনএইচসিআর: মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ শরণার্থী।
ইয়েমেন: ৫ বছরের নিচে ২১ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টি। আফগানিস্তান: নারী শিক্ষা বন্ধ, ২৫ লাখ মেয়ে স্কুলের বাইরে।
কূটনীতির সুযোগ ২০২৩ এ ইরান-সৌদি সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, ওআইসির শান্তি প্রস্তাব – আশার আলো। বিশ্লেষকদের মতে, “সংলাপ ছাড়া এই চক্র ভাঙবে না। অস্ত্র দিয়ে শান্তি আসে না, আসে ধ্বংস।”