স্বামীকে হারিয়েছেন প্রায় দুই দশক আগে। এরপর একমাত্র ছেলেকেও হারিয়েছেন কিছুদিন আগে। ছেলের মৃত্যুর পর চিকিৎসার অভাবে মারা যান পুত্রবধূও। মা-বাবাহীন দুই নাতিকে নিয়ে এখন অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন ৬৯ বছর বয়সী বিধবা ও শারীরিক প্রতিবন্ধী রাহেলা খাতুন। নিজের একটি পা নষ্ট হওয়ায় ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না তিনি। তবুও দুই নাতির মুখে খাবার তুলে দিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চাইতে হয় তাঁকে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৫ নং সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের উত্তর কাজিয়াকান্দা ডুগার পাড় গ্রামের বাসিন্দা রাহেলা খাতুন। তিনি মৃত নওয়াব আলীর স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্টের মধ্যে দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে জোটেনি বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড।
দুই এতিম নাতিকে নিয়ে কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো জোটে না। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অসুস্থতার কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারলে অনেক সময় অনাহারেই দিন কাটাতে হয় তাঁদের। রাহেলার এমন দুরবস্থার কথা জানতে পেরে জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির ফুলপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জুয়েল রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টটি ব্যারিস্টার মো. রাশিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি রাহেলা খাতুনের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর সহযোগিতায় রাহেলার হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাহেলা। অশ্রুসিক্ত নয়নে সহায়তাকারীর জন্য দোয়া করেন তিনি।
কাঁদতে কাঁদতে রাহেলা খাতুন বলেন, ‘খেয়ে খেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করব—যে আমাকে সাহায্য করেছে, আল্লাহ যেন তাঁর ভালো করেন। তাঁর মনের আশা পূরণ করেন। আমার নিজের জন্য তেমন কিছু চাই না। শুধু দুই এতিম নাতির মুখে যেন দুমুঠো ভাত তুলে দিতে পারি।’
রাহেলা আরও বলেন, ‘আমার পা নষ্ট, বয়সও হয়েছে। আর কত দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাহায্য চাইতে পারব, জানি না। এমনও দিন গেছে, না খেয়ে থাকতে হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাহেলা খাতুনের মতো অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর জন্য বিধবা বা বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা এবং দুই এতিম নাতির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাহেলার পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসবেন। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে দুই এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ কিছুটা নিরাপদ করা হবে।
সহায়তা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফয়জুর রহমান, ফুলপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।