বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর কবাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হানুয়া লক্ষ্মীপাশা গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে মাহফুজা আক্তার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী বাবুল হাওলাদারসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহত মাহফুজা আক্তার উপজেলার ৪ নম্বর দুধাল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে বাবুল হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহতের পরিবার জানায়, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে ধার-দেনা ও ঋণ করে প্রায় চার লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় মাহফুজার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামী বাবুল হাওলাদার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা মাহফুজাকে মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তার মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের পর সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকেই স্বামী বাবুল হাওলাদারসহ অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, মাহফুজা আক্তারের একমাত্র কন্যাশিশুকেও জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। তারা দাবি করেন, মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না এবং নানাবাড়ির স্বজনদের সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিশুটিকে দ্রুত তাদের জিম্মায় ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, তারা এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি একমাত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা