কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৯) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর অপপ্রচার, হুমকি-ধমকি এবং গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের দাবি, তাদের বাবা ও চাচারা মোট চার ভাই ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরহুম মো. শফিকুল ইসলামের দুই ছেলে, মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আরিফ (৩৭) ও মো. বাবু (৩৪), দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তাদের তিনটি পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, তাদের ফুফু আলেয়া বেগমের কোনো উত্তরাধিকারী না থাকায় চার পরিবার মিলে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন। ফুফুর মৃত্যুর পর ঘরটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সম্মান ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিন পরিবার পারস্পরিক সম্মতিতে ঘরটি অপসারণ করে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, ঘর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
একই বিষয়ে নজরুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. আল-আমিন (৪৫) বলেন, পরিবারের সদস্যদের সম্মতিক্রমেই ঘরটি অপসারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নজরুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (৪০) ও মো. জাকির হোসেন (৩৮) দাবি করেন, ফুফুর এক শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মরহুম শফিকুল ইসলামের ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। তাদের অভিযোগ, এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পরিবারের সদস্যরা বাইরের লোকজন এনে হুমকি-ধমকি, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। একই সঙ্গে আরিফ ও বাবু ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের তিন পরিবারের বিরুদ্ধে গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও তারা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আরিফ ও মো. বাবু মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের বড় বোন পারভীন আক্তার পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন।
পরে পারভীন আক্তার (৪৮), মরহুম মো. শফিকুল ইসলামের কন্যা, সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলাম, আল-আমিন, জাকির, জাহাঙ্গীরসহ তাদের স্বজনরা মিলে তাদের ফুফুর ঘর ভেঙে নিয়ে গেছেন। তার অভিযোগ, ওই ঘরে থাকা মালামাল এবং তাদের বসতঘরে রাখা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তার মা ও ভাইদের স্ত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
পারভীন আক্তার আরও বলেন, তাদের ফুফু জীবদ্দশায় স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এক শতাংশ জমি তাদের কাছে বিক্রি করেছিলেন। তবে নিবন্ধিত দলিল না থাকায় বর্তমানে ওই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনিও প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজ নিজ বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।