আজ চিঠিটা তোমাকেই লিখছি।কারণ পৃথিবীর সবাইকে বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত হয়ে গেছি..এবার একটু তোমাকেই বুঝি।
তুমি জানো, তোমারও কষ্ট হয়।তুমি সবসময় হাসিমুখে থাকো বলে কেউ কেউ ভুলে যায়, হাসির আড়ালেও একটা মন থাকে।
সেই মনটাও কখনো অভিমান করে, কখনো ভেঙে যায়, কখনো খুব নিঃশব্দে কাঁদে।সন্তানের কোনো কথায় বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন করে ওঠে, তবুও তুমি চিৎকার করো না-
কিছুদিন প্রয়োজনের চেয়ে কম কথা বলো।হয়তো তুমি তাকে শাস্তি দিতে চাও না, শুধু বোঝাতে চাও—
“তোমার কথায় আমারও কষ্ট হয়।আমি শুধু মা-বাবা নই, আমিও একজন মানুষ।”তবে মনে রেখো, অভিমান যেন দেয়াল না হয়ে যায়-সন্তানকে ভুল বুঝতে শেখাও, কিন্তু ভালোবাসার দরজাটা খোলা রেখো।
আর প্রিয় মানুষটা যদি হঠাৎ চুপ হয়ে যায়?তাকে নিয়ে সারারাত ভাবতে বসো না।হাজারটা প্রশ্নের উত্তর নিজের ভেতর খুঁজতে যেও না।
নিজেকে বলো “যে কথা বলার ছিল, সে একদিন বলবেই।আর যে নীরবতাকে বেছে নিয়েছে, তার নীরবতার দায় আমার নয়।”সব মানুষকে ধরে রাখতে নেই।
কিছু মানুষকে ভালোবেসেও ছেড়ে দিতে হয়।কিছু সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, অথচ ভালোবাসাটা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় না।বিচ্ছেদ হলে কেঁদো।
মন চাইলে "অ্যাকশন মুভি" দেখো ।যে গান শুনলে মন আপনাআপনি নেচে ওঠেএমন গান শোনো। কিন্তু নিজেকে ছোট কোরো না। কারও চলে যাওয়া মানে এই নয় যে তোমার মধ্যে কোনো কমতি ছিল।
কখনো কখনো মানুষ চলে যায় শুধু এই কারণে যে, একসঙ্গে থাকার গল্পটা তাদের জন্য লেখা ছিল না।তখন নিজেকে একটু আদর করে বলো ।সব হারানো ক্ষতি নয় কিছু হারানো মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে।
আর মন খারাপ হলে?নো টেনশন!জীবনটা এমনিতেই খুব সিরিয়াস। চুল খুলে বসো।তারপর যে খাবারটা খেলে তোমার মুখে হাসি আসে সেটা খেয়ে নাও।আজ ক্যালোরি গুনতে হবে না।
আজ মনটা গুনো। মোটা হয়ে যাবে?হোক না!মন ভালো থাকলে দুদিন পর ডায়েট করে নিও।
জীবনে সবকিছুর হিসাব রাখতে নেই।
কখনো কখনো একটা বৃষ্টিভেজা বিকেল, এক কাপ চা, একটা প্রিয় গান আর নিজের পছন্দের খাবার, এগুলোও বেঁচে থাকার খুব সুন্দর কারণ।
আর হ্যাঁ, সবসময় শক্ত মানুষ হয়ে থেকো না-
নতুন কিছু শিখো, যেটা তোমার করতে মন চায়, সময়ের অভাবে করা হয়ে উঠে না। যেমন আজকে আমি আমার পোস্টের ভিডিও টা বানানো শিখছি।
কখনো নিজের জন্য ফুল কিনো।
কখনো সাজো, কাউকে দেখানোর জন্য নয়, শুধু নিজের আয়নায় নিজেকে একটু ভালো লাগার জন্য।
কারণ তুমি সারাজীবন অন্যের চোখে সুন্দর হতে চেয়েছো।
এবার নিজের চোখেও নিজেকে সুন্দর করে দেখো।
যারা তোমাকে বুঝতে পারেনি, তাদের বোঝাতে যেও না।
যারা তোমার মূল্য দেয়নি, তাদের কাছে নিজের মূল্য প্রমাণ করতে যেও না।
তুমি কোনো পরীক্ষার খাতা নও,
যে সবাই তোমাকে নম্বর দিয়ে যাবে।
তুমি একটা পূর্ণ জীবন।
তোমার ভেতরে ভুল আছে, অভিমান আছে, অসম্পূর্ণতা আছে, আবার অসীম ভালোবাসাও আছে।
কেউ তোমাকে ছেড়ে গেলে নিজেকে বলো—
“আমি একা হয়ে যাইনি, আমি নিজের কাছে ফিরে এসেছি।”
কেউ কষ্ট দিলে বলো—
আমি কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু এই কষ্ট আমাকে শেষ করে দেবে না।
সন্তান ভুল করলে বলো-
“আমি রাগ করেছি, কিন্তু ভালোবাসা কমাইনি।”
আর নিজের মন যখন ভেঙে পড়বে, তখন বুকের ওপর হাত রেখে শুধু বলো-
“চুপ…
সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি তো আছি।”
হয়তো সব ঠিক আগের মতো হবে না।
কিছু মানুষ আর ফিরবে না।
কিছু সম্পর্ক আর আগের জায়গায় দাঁড়াবে না।
কিছু বিকেল চিরকালই স্মৃতি হয়ে থাকবে।
তবুও জীবন সুন্দর।
কারণ জীবন মানেই শুধু পাওয়া নয়-
কিছু হারানো, কিছু মেনে নেওয়া, কিছু ছেড়ে দেওয়া, আর প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখা।
তাই প্রিয় আমি,
কারও ভালোবাসার অভাবে নিজেকে অনাহারে রেখো না।
কারও নীরবতায় নিজের হাসিটা বন্ধ কোরো না।
কারও চলে যাওয়ায় নিজের পৃথিবীটা থামিয়ে রেখো না।
জীবনটা তোমারও।তাই বাঁচো।হাসো।
ভালোবাসো।মন খারাপ হলে কাঁদো।
তারপর চোখের পানি মুছে আবার সাজো।কারণ তোমাকে ভালো রাখার দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত তোমারই।
আজকের চিঠিটা এখানেই শেষ করি।আবার কোনো এক মন খারাপের রাতে তোমাকে লিখব।
ততদিন পর্যন্তনিজেকে ভালো রেখো,নিজেকে ক্ষমা করো,নিজেকে একটু বেশি ভালোবাসো।
ইতি,
তোমারই—
তুমি।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা