কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বিয়ের মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় কাজল রেখা (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কাজল রেখাকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। তবে শ্বশুরপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।
নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রানার বাবা মো. রাসেল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার স্বামী বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, গত শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে কাজল রেখা বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার সেখানে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহতের বাবা, গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে কাজল রেখার মৃত্যুর খবর জানায়। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
অভিযুক্ত স্বামী রানার বাবা মো. রাসেল বর্তমানে টেকনাফে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “বিয়ের পর থেকে তাদের সংসার শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কর্মসূত্রে আমি আমার ছেলেকে টেকনাফে নিয়ে গিয়েছিলাম। গত পরশু তাকে বাড়িতে পাঠাই। কাজলও গতকাল বাবার বাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল নিয়ে বাড়িতে আসে। তখন আমার স্ত্রীও বাড়িতে ছিল না। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, তা আমি বুঝতে পারছি না।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মাত্র সাড়ে চার মাসের দাম্পত্য জীবনের পর কাজল রেখার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা