২৯ জুন ২০২৬ ঢাকার আশুলিয়ায় শিক্ষকের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে রাতুল হাসান রিফাত (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের একাংশ।
গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ীর উত্তর পাশের বংশাই (গাজীখাল) নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক মোট ৯ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নদীতে গোসল করতে যান।
নিহত রাতুল হাসান রিফাত জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর কিসমত জাল্লা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে আশুলিয়ার কোনাপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় আল-ক্বলম প্রি-পারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে শিক্ষক ইমরান শিক্ষার্থীদের নিয়ে নদীতে নামেন। একপর্যায়ে রিফাতসহ আরও দুই শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। পরে অন্য দুজন উঠে এলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় আমছু রহমান, মাসুদ রানাসহ অনেকে প্রায় এক ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিফাতকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা আমছু রহমান বলেন, “শিক্ষককে বারবার নিষেধ করা হয়েছিল যে এখানে পানির স্রোত বেশি, বাচ্চাদের নিয়ে যেন না নামেন। এরপরও তিনি ৯ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নদীতে নামেন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষকসহ তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। পরে দুজন উঠে এলেও রিফাত নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, স্কুল থেকে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের নামে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দাবি, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই নদীতে নিয়ে যাওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আল-ক্বলম প্রি-পারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কর্ণধার খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরানের বক্তব্যও একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা