আমি মোঃ মতিউর রহমান সরদার-ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেস শাখায়,সহকারী মনো অপারেটর পদে চাকরি করতাম। মহান স্বাধীনতাকে তুলে গালী দেওয়ার প্রতিবাদ স্বরূপ আমি রাজাকারকে রাজাকারের বাচ্চা বলেছিলাম। সেই কারণে কর্মরত থাকাবস্থায় আমাকে অন্যায়ভাবে গত ০৫ আগস্ট ১৯৯০ সালে চাকরিচ্যুত করা হয়। সেই থেকে বেকার এবং পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই এরশাদের পতনের পরে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এবং পরবর্তী সকল সরকারের কাছে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় আমি ধারাবাহিকভাবে আবেদন জানানো অব্যাহত রেখেছি। জীবনের শুরু থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি করি এবং কতিপয় নেতার ভয়াবহ দুঃসময় তাদের পিছনে থেকে জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছি। বিশ্বাস ছিল তাদের সহযোগিতা পাবো। দুঃখজনক হলেও সত্যি তাদের অবস্থা ও অবস্থানের পরিবর্তন হওয়ার পরে আর চিনে না এবং তাদের নীতির পরিবর্তন হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে ১৬ বছর যাবত স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক নেতাদের পিছনে থেকে পূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য লাগাতারভাবে পালন করেছি। বিএনপি সরকার গঠন করার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ধর্মমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছি যাবতীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করে। আমি যে মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছিলাম তার প্রমাণস্বরূপ অনেক ফটোচিত্র ও পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত করেই আবেদন করেছিলাম। আমার কোন আবেদন-নিবেদন কোথাও কার্যকর হচ্ছে না দেখে। আমি বায়তুল মোকাররম হকার্স মার্কেটের বাহির পাশে ২০ বাই ৩ ফুটের একটি পরিত্যক্ত দোকান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার অগ্রাধিকার কেন। রাজাকার গং আমাকে অন্যায়ভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে চাকরিচ্যুত করেছে। সেই হিসেবে আমার অগ্রাধিকার রয়েছে। এদিকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ১৬ বছর মাঠে ছিলাম। মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাকে ভালো চিনেন-ভালো জানেন এবং মাঠে দেখেছেন। তাই সদয় হয়ে আমার আবেদনপত্রে তিনি এবং মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাহেব সুপারিশ করেছেন। আমি আবেদন জমা দেওয়ার পরে এখন অনেকের নজর সেই জায়গার দোকানটির উপরে পড়েছে। কেউ বলে ধর্মমন্ত্রীর ভাই যাকে খুশি তাকে দিতে পারেন-কেউ বলেন মহাপরিচালক,ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকে খুশি তাকে দিতে পারেন। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে এবং বলছে টাকার ব্যাপার তো,তাই প্রধানমন্ত্রী বললেও কাজ হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত কোন-কোন কর্মকর্তা এবং কর্মচারী বায়তুল মোকাররম মার্কেটে বিশাল বড় দোকান পেয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আমার জন্য কেন নতুন আইন-নিয়ম-কানুন তথা টেন্ডারের চিন্তা করা প্রয়োজন হলো। আমি আবেদন করার পরেই এখন টেন্ডারের প্রশ্ন আসছে যাতে আমি দোকান বরাদ্দ না পাই। যার টাকা আছে সে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে টাকা দিয়ে খুশি করতে পারবেন এবং দোকান বরাদ্দ নিতে পারবে। এই হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলাম। ইসলাম আছে কিন্তু ইসলামের আলোকে মানব কল্যাণে কোন কাজ হয় না এবং সেই কারণেই মহান আল্লাহপাক পৃথিবীর উপরে নানা প্রকারের গজব ও আজাব নামিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনেকেই জানেন আমাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং রাজাকার গং হত্যার উদ্দেশ্যে আটকিয়েছিল এবং হত্যা করতে না পেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ বছরের বেশি জেল খাটানো হয়েছে। আমি অনেক আবেদন-নিবেদনে দাবি করে বলেছিলাম তদন্ত করা হোক কিন্তু কোন তদন্ত করা হয়নি। আমাকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম শাখার সাব-স্টেশনে কাজ করানো হয়েছে। পারিশ্রমিক পরিশোধ না করা কি আমার প্রতি অবিচার করা হয় নাই? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কি দরকার ছিল না আমার অভিযোগ এবং আবেদন পত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নেওয়া? বিএনপি’র আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার এবং বেগম খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের সাথে ফেসবুকে আমার ছবি দেখে পুলিশ-ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের ভয় দেখিয়ে ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী দোসর কর্মকর্ত ও কর্মচারীরা আমাকে বের করে দেয়। আমাকে দিয়ে তো ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর কাজ করানো হয়েছে। আমি সাব-স্টেশনে কাজ করেছিলাম যার প্রমাণ দেখিয়ে ফটোচিত্রসহ প্রধানমন্ত্রী এবং ধর্মমন্ত্রী ও মহাপরিচালক,ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরাবরেও একাধিকবার আবেদন করেছিলাম। সাব-স্টেশনে ১১ বছর কাজ করার পারিশ্রমিক হিসাবেও ইসলামিক দৃষ্টিকোণের আলোকে আমি টাকা পাই। অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করে আমার প্রতি যেইভাবে অন্যায়-অত্যাচার-নির্যাতন-জুলুন ও নিপীড়ন মূলক কার্যক্রম করা হয়েছে এবং আমার পরিবার ধ্বংসস্তূপের মাঝে রাখা হয়েছে যা অত্যন্ত অমানবিক। আমার আবেদন ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজন ছিল তদন্ত কমিটি গঠন করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করা। সুতরাং সেই বিবেচনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইচ্ছে করলে আমাকে সহজ শর্তে উক্ত দোকানটি বরাদ্দ দিয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতে পারতেন। এই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোন-কোন কর্মকর্তা চুরি-দুর্নীতি করেছে যার প্রমাণ পাওয়ার পরেও কোন বিচার হয় নাই,বরং ভাগ-বাটোয়ারা দিয়ে আরো পদোন্নতি লাভ করেছে। এরশাদ পতনের পরপর বায়তুল মোকাররম মসজিদের মূল্যবান পাথর ট্রাকে করে পাচার করার সময় ধরা পড়ে। সেই সংবাদ দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশ হয়। পরে আবার থেমে যায়। সাবেক পেশ ইমাম আবুল হোসেন এর রুমে নারী ঢুকিয়ে বাহির থেকে তালা মেরে তাকে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এরশাদের আমলে চাকরিচ্যুত করা হয়। সাব-স্টেশনের মূল্যবান মালামাল পতিত আওয়ামী দোসরেরা চুরি করে বিক্রি করে খেয়েছে। ওদের কোন তদন্তও হয় না বিচারও হয় না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পীর-ফকির-সূফী-সাধক-গাউস-কুতুব-দরবেশের যে সংখ্যা আছে তারা মিলে যেভাবে চালায় সেভাবে চলে। ইসলামকে মানব কল্যাণে পরিচালনা করা হয় না। আমি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা উভয়ই মানবেতর জীবনযাপন করছি কিন্তু তারপরেও আমার নামে কোন প্রকারের অসামাজিক কর্মকান্ড-সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজী-ধান্দাবাজীর কোন অভিযোগ সমাজের কোথাও নাই এবং মামলাও নাই। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রতি ধর্মমন্ত্রী এবং মহাপরিচালকের কি কোন দায়বদ্ধতা নাই? ইসলামিক বয়ান শুনানো আর কাজ করা এক বিষয় নয়। ইসলামের ও মানুষের উন্নয়নে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে মানব কল্যাণে অবদান রাখা প্রয়োজন হয়। আমি যদি কোন মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হতাম,তাহলে আমার কাজ হতো। দুনিয়ার ক্ষমতার মোহে এবং অর্থের লোভে অন্ধ হয়ে মানুষ-মানুষের আবেদন-নিবেদন পর্যালোচনা করে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে সহায়তা করার সুযোগ নেয় না। ইসলাম পিছিয়ে থাকার কারণে রয়েছে ইসলামিক পণ্ডিতগণ যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করা। সেই কারণে অনেক মুসলমান মনের কষ্টে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। এ বিষয়গুলো আমাদের ক্ষমতাধর মুসলিম প্রতিনিধি এবং ধনী শ্রেণীর মুসলমান আমলে নেয় না। যারা যখন ক্ষমতায় থাকে তারা তখন তাদের পছন্দের লোকজন নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে। যারা মাঠে ত্যাগ স্বীকার করে আন্দোলন ও সংগ্রামে অবদান রাখে এবং রাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তারা বঞ্চিত হয়। একটু সহায়তা ও স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার আশা নিয়ে অনেকে দল ও নেতাদের দুঃসময় পাশে থেকে কাজ করে কিন্ত অনেকের সব আশাই যায় বিফলে। ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা রেখে ১৬ বৎসর বিএনপি’র পক্ষে কাজ করেছি। সে কারণেই আজ সরকার এবং প্রশাসন পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে। তাই আশা রাখি ইসলামিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সহায়তা পাওয়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনেক কিছুই জানি কিন্তু আপাতত আর বলবো না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মান-মর্যাদা যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেইদিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছি। কোন-কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু কর্মকর্তারা যেই নিয়মে কার্যক্রম করে তাতে সম্পদশালীরা আরো সম্পদশালী হবে এবং অর্থের মালিক হবে ও মুল হকদারেরা বঞ্চিত হবে। ধর্মমন্ত্রী এবং মহাপরিচালক,ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্ভবত সরাসরিভাবে তাদের সুশিক্ষার আলো দিয়ে আমার আবেদনপত্রগুলো পর্যালোচনা করেন নাই। যদি পর্যালোচনা করে আমলে নিতেন,তাহলে দোকানটি আমার নামে বরাদ্দ দিয়ে ইসলামিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আমাকে সহায়তা করতেন। আমি আশা করি ধর্মমন্ত্রী এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় শিক্ষায়-শিক্ষিত মুফতি,মহাপরিচালক,ইসলামিক ফাউন্ডেশন,ইসলামিক দৃষ্টিকোণের আলোকে সহায়তা করবেন। ন্যায় বিচার ও বৈষম্যহীন সহায়তা পাওয়ার আশায় ১৬ বছর মাঠে থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেছি। নতুন সরকার ও প্রশাসন গঠনে অবদান আছে। সুতরাং ন্যায় পথে সহায়তা পাওয়ার দাবি আমার আছে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণের আলোকে ন্যায় বিচার না পেয়ে এবং নানামুখী সমস্যায় থাকার কারণে আমি যদি আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করি। এজন্য ধর্মমন্ত্রী এবং মহাপরিচালক,ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব নিতে হবে।