ঠাকুরগাঁওঃ কখনো ডাল, কখনো আলুভর্তা, কখনও আবার দিন কাটে অর্ধাহারে। কোনো ব্যক্তি অনুদান দিলে ভাগ্যে জোটে একটুকরো মাংস। সরকারি কোনো সহযোগিতাও মেলে না তাদের।
এভাবেই দিন কাটছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন খানকায়ে মোহেব্বীয়া কমপ্লেক্স ও রুহিয়া পশ্চিম মোহেব্বীয়া ইব্রাহীমা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা লিল্লাহি বোডিং এর মোট ১৪৩ জন এতিম শিশুর।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রুহিয়া থানাধীন সেনিহারী টু ব্যারিস্টার রোডের রেলওয়ের খানকায়ে মোহেব্বীয়া কমপ্লেক্স এতিম খানা লিল্লাহি বোডিং এবং রুহিয়া পশ্চিম মোহেব্বীয়া ইব্রাহীমা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানা লিল্লাহি বোডিং গড়ে উঠেছে মাদ্রাসার হিফজখানা ও এতিমখানা। এখানেই চলে এতিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা। তবে এসব শিশুদের ভাগ্যে ভালো খাবার সহজে জোটে না। প্রায় সময় ডাল-ভর্তা দিয়ে খেতে হয়। কখনো যদি কোনো ব্যক্তি অনুদান দেন তাহলেই মাংসের ব্যবস্থা হয়। এক ব্যক্তি মাংসের ব্যবস্থা করলে বেশ খুশি মনে দুপুর খাবার খেতে বসে এসব শিশু।
জানা যায়, ২০১৫ সালে খানকায়ে মোহেব্বীয়া কমপ্লেক্স ও ২০২২ সালে রুহিয়া পশ্চিম মোহেব্বীয়া ইব্রাহীমা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এতিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতে মাদ্রাসা দুটি গড়ে তোলেন চিকিৎসক আলহাজ্ব ডাঃ ইব্রাহিম জামান (৬৫)। নিজের জমানো টাকা ও আত্মীয়স্বজনদের সহায়তায় এতিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও খাবার খরচ চালান তিনি।
মাদ্রাসার পাশেই বাসা আবু তায়েব তিনি বলেন, ভোরে এসব শিশুর কণ্ঠে কোরআন পাঠ শুনে ঘুম ভাঙে। মানুষের অনুদান না পেলে প্রায় সময় এতিম শিশুদের ভাত জোটে না। যতটুকু সম্ভব মানুষ এদের সহায়তা করে। আর তাতেই খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে দিন চলছে তাদের।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম জামান বলেন, এতিম শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতে দুটি এতিমখানা করছি ।
মাদ্রাসার এতিম এসব শিশুর দুই বেলা খাবার জোগাড় করা অনেক কষ্টের। তবু শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করি।
তিনি এসব এতিম শিশুর সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
এই বিষয়ে ইউনিয়ন সমাজ সেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, উক্ত এতিমখানার বিষয় আমি অবগত আছি, আমি উক্ত এতিমখানা পরিচালনা পর্ষদকে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।