ঢাকা কাস্টম হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিব, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনসাধারণের একাংশ বলছে, রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্বের অর্থ আত্মসাৎ বা ফাঁকির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সরকারি রাজস্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অডিট ও তদন্ত জোরদার করা জরুরি। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে দুর্নীতির সুযোগও কমবে।
এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা এবং নথিপত্র যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে এসব অভিযোগের সত্যতা কতটা।
সচেতন মহলের দাবি—অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।