কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ডিগ্রি কলেজে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও মরহুম সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্যারের স্মরণে ইছালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএ, বিবিএস ও বিএসএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তবে বিভাগ বা ব্যাচভিত্তিক উপস্থিতির সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
অনুষ্ঠানে ডুলহাজারা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনির উদ্দীন আনচারীসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা কলেজজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময়, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্নেহ-শাসন এবং ক্যাম্পাসজীবনের নানা স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জমির উদ্দীন সরকার (বিএ) বলেন, “কলেজজীবনের এই সময়গুলো আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, শিক্ষা ও সহযোগিতা আমরা সবসময় মনে রাখব। বিদায় নিলেও এই কলেজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও স্মৃতি কখনো শেষ হবে না।”
আসনা মনি (বিবিএস) বলেন, “বিদায়ের মুহূর্তটি সত্যিই অনেক আবেগের। দীর্ঘদিন একসঙ্গে পথচলার পর আজ সবাই ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে চলে যাব। তবে কলেজের স্মৃতি এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময় আমাদের হৃদয়ে আজীবন থেকে যাবে।”
আব্দুল মান্নান (বিএ) বলেন, “বিদায় মানেই সবকিছুর সমাপ্তি নয়, বরং জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ডুলহাজারা ডিগ্রি কলেজ থেকে আমরা যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ পেয়েছি, তা ভবিষ্যৎ জীবনে আমাদের পথ দেখাবে। আমাদের শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনির উদ্দীন আনচারী বলেন, “কলেজজীবনের সমাপ্তি মানেই সম্পর্কের সমাপ্তি নয়। শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেও ডুলহাজারা ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও স্মৃতি আজীবন অটুট থাকবে। ভবিষ্যৎ জীবনে সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে।”
এদিকে অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মরহুম সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্যারের স্মরণে ইছালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই মরহুমের জন্য দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক শুভেচ্ছা, স্মৃতিচারণ ও ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।