নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুধু সাংবাদিক মহলই নয়, সাধারণ মানুষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকরা বলছেন, সামাজিক অন্যায়-অবিচার উন্মোচন করতে গিয়ে যদি সংবাদকর্মীরাই নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।
ঘটনার সূত্রপাত সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ডিমলার একটি এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী। ওই সময় ঘটনাস্থলে প্রভাবশালী এক পক্ষ তাদের কাজে বাধা দেয়। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের উপর নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। এতে উপস্থিত সাংবাদিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক বলেন, “আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের কাজ করতে দেয়নি। তারা নানা রকম ভয় দেখিয়েছে, এমনকি ভবিষ্যতে খবর প্রকাশ করলে ক্ষতির হুমকিও দিয়েছে।
আরেকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। এখানে বাধা সৃষ্টি করা মানে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
ডিমলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এক জরুরি সভায় বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা বা হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে গিয়ে যদি এভাবে বাধার মুখে পড়েন, তবে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও অপরাধ আরও বেড়ে যাবে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আমরা ঘটনাটি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, এ ধরনের হুমকি শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি সমাজ ও আইনের শাসনের জন্যও একটি বড় হুমকি। এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনে বাধা দেওয়া মানে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, তবে সমাজের প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে আসবে না। এতে অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
উপসংহার
সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। অথচ তারাই যদি প্রতিনিয়ত হুমকি-ভয়ভীতির মধ্যে কাজ করেন, তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। ডিমলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাটি শুধু স্থানীয় সাংবাদিক নয়, জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা