নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি জোত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের হয়রানি করতে ধারাবাহিকভাবে মামলা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোলপাড়া ও পশ্চিম খড়িবাড়ী মৌজার মোট ৮২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন, ইউনুস আলী ও রহমত আলী জানান, তাদের মা জয়গুন বেওয়া জীবিত অবস্থায় ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর স্বেচ্ছায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে মোট ৮২ শতাংশ জমি ফরহাদ হোসেনের নামে দানপত্র করে দেন। ওই জমির মধ্যে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোলপাড়া মৌজায় ৮০ শতাংশ এবং গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী মৌজায় ২ শতাংশ জমি রয়েছে।
তারা আরও জানান, জয়গুন বেওয়ার পাঁচ ছেলে সন্তানের মধ্যে ফরহাদ হোসেনের নামে দানপত্র সম্পাদনের সময় ইউনুস আলী ও রহমত আলী শনাক্তকারী সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং জমির দখলও বুঝিয়ে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে বিষয়টি জানতে পেরে অপর দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আয়নাল হক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করেন। তারা কলা বাগান, সুপারি গাছ ও বাঁশঝাড় কেটে ফেলে জমি দখল করে নেন এবং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ফরহাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে আমরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।
ইউনুস আলী বলেন, “আমাদের মা ছোট ভাই ফরহাদ হোসেনকে জমিটি দান করেছিলেন। কিন্তু জয়নাল ও আয়নাল জোরপূর্বক জমি দখল করে নিয়েছেন এবং আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছেন। আমরা আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছি।
রহমত আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না। তাই দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা নিজেদের আইনগত অধিকার রক্ষার স্বার্থেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং সব কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: [email protected]
দৈনিক ষোষণা