পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি করুণা বেগম ও সহ-সভাপতি পান্না বেগমের নেতৃত্বে জেলেদের অধিকার আদায় এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গত ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরণের ফিশনেট প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার শেখ রুসায়েদ উল্লাহ এবং ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মোঃ আরিফুজ্জামান।
আলোচনা সভায় ফেডারেশনের সভাপতি করুণা বেগম মৎস্যজীবী পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জেলেদের জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং অসুস্থ ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র সমাজসেবা অফিসে জমা দিলে যোগ্য ব্যক্তিদের সেবা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। এ সময় উত্তরণের পক্ষ থেকে শেখ রুসায়েদ উল্লাহ ও মোঃ আরিফুজ্জামান জেলেদের যেন কোনো সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানান। আলোচনা সভা শেষে সমাজসেবা কর্মকর্তা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ নেছার উদ্দীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে ফেডারেশনের সভাপতি করুণা বেগম জানান যে, অনেক প্রকৃত মৎস্যজীবীর এখনও জেলে কার্ড নেই। তিনি জানতে চান, কীভাবে এসব জেলে পরিবার জেলে কার্ডের আওতায় আসতে পারে।
জবাবে মোঃ নেছার উদ্দীন জানান, আগামী মাসের শেষ দিকে নতুন করে জেলে কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। সে সময় উত্তরণ প্রকল্পের সহায়তায় সংশ্লিষ্টরা অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, “যদি আবেদনকারীরা প্রকৃত মৎস্যজীবী হন, তাহলে তাদের জেলে কার্ড প্রাপ্তির বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
সাক্ষাৎ শেষে ফেডারেশনের সভাপতি করুণা বেগমসহ উপস্থিত সদস্যরা উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে উত্তরণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।