জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এশামনি (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে ওই গ্রামের ইব্রাহিম মাস্টারের মেয়ে এবং রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে এশামনির দ্বিতীয় অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা ছিল। তার বাবা ইব্রাহিম মাস্টার প্রতিদিনের মতো সকালে তার কর্মস্থল একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় মেয়েকে পরীক্ষার জন্য টাকা দিয়ে যান। বাবা চলে যাওয়ার পর এশামনির মা ঘরের রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছু সময় পর মা এশামনির ঘরে গিয়ে দেখতে পান সে ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। মায়ের চিৎকার ও আহাজারিতে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে এশামনি আর বেঁচে ছিল না।
মৃত এশামনি গতকাল তার অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এশামনি আমাদের বিদ্যালয়ের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মকবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।