জামালপুর সদরের দিগপাইত ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনকে (৫০) চলন্ত বাসে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের তিন পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জমি বিক্রির টাকার লোভের বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত উপশহরে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইসমাইল হোসেনের পরিবার ও দিগপাইত ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এলাকার শত শত সচেতন মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য রাখেন দিগপাইত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক মাষ্টার, রেজাউল করিম হাবু এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আদিব শৈরবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্যে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ইসমাইল হোসেন জমি বিক্রির টাকা নিয়ে মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল মেয়ের বিয়ে দেওয়া এবং কিছু পাওনাদার ও ধার-দেনা পরিশোধ করা। পথিমধ্যে বাসের ভাড়া পরিশোধ করার সময় সুপারভাইজার তার কাছে থাকা টাকার বান্ডেল দেখে ফেলেন। এরপর টাকার লোভে পড়ে চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
অন্যান্য যাত্রীরা গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর বাসটি ফাঁকা হলে তারা ইসমাইল হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ রাজধানীর বনানী ফ্লাইওভারের নিচে ফেলে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গণপরিবহনের চালক ও সহযোগীদের মাধ্যমে সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে পুরো জামালপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারে চলছে মাতম ও কান্নার রোল। শোকার্ত পরিবার ও স্বজনরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা